বরিশালে রোগীর দালালদের দৌরাত্ব, বিপাকে রোগীরা

এম সাইফুল ইসলাম ॥
বরিশাল নগরীতে বেড়ে গেছে রোগীর দালাল। প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছে রোগীরা। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রামগঞ্জ থেকে আসা সাধারণ মানুষ। শহরের প্রভাবশালী বেশির ভাগ ডাক্তারই এই দালাল প্রাকটিসে জড়িত থাকায় সাধারণ মানুষের জিম্মিদশা। রিক্সাওয়ালা, অটো ড্রাইভার অথবা ডাক্তার এটেনডেন্ট সেজে বিভিন্ন কায়দায় দালালরা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের কর্মকান্ড। রোগীর দালালীর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে জড়িত হচ্ছে এসব দালালরা। প্রশাসনের সামনেই এই প্রতারণা ঘটলেও এর বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়না। খোজ নিয়ে জানা গেছে, রূপাতলি বাস স্ট্যান্ড, নথুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ড, লঞ্চ ঘাট, বিভিন্ন হাসপাতালের সামনে সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পয়েন্টে বেশীরভাগ দালালদের আনাগোনা। দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা বাস লঞ্চ থেকে নেমে ডাক্তার দেখানোর কথা বললেই শুরু হয় প্রতারকদের কারসাজি। নির্দিষ্ট কোন ডাক্তারের নাম বললে প্রথমে সেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে যাত্রী ওঠানো হয়। কিছু দুর গিয়ে বলা হয় সেই ডাক্তার মারা গেছে অথবা ঢাকা গেছে এই জাতীয় ঢাহা মিথ্যা কথা। তারচেয়ে আরও একজন ভাল ডাক্তার আছে বলে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় অন্যত্র। এরপর ডাক্তার ফি, পরীক্ষার ফি সহ সব কিছু থেকেই দালালরা পার্সেন্টিস পেয়ে যান। আর ডাক্তাররাও প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষ নীরিক্ষা লিখেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অপরদিকে প্যাথলজিতে ৩০ শতাংশ রেফার ফি দেওয়ায় ডাক্তাররা অতিরিক্ত পরিক্ষা নীরিক্ষা লিখতে উৎসাহী হয়। আর সকল খরচ নেমে আসে বেচারা রোগী আর স্বজনদের উপরে। ধারদেনা করে টাকা নিয়ে এসে এভাবেই প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন তারা। বঞ্চিত হচ্ছেন সুচিকিৎসা থেকে।
দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ছয়টি জেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে এসে থাকেন। আর বরিশাল নগরীতে রয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল, টিবি হাসপাতাল সহ আরো একাধিক সরকারী চিকিৎসা কেন্দ্র। তাছাড়া প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিকের মধ্যে রয়েছে, ডায়াবেটিক হাসপাতাল, ফেয়ার হেলথ ক্লিনিক, আম্বিয়া হসাপাতাল, মোখলেছুর রহমান সহ আরো অনেকগুলো প্রাইভেট ক্লিনিক। প্রায় অর্ধ শতাধিক ডায়াগনষ্টিক সহ রয়েছে শতাধিক ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বার। সেই সুবাদে গ্রামগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে হাজার হাজার মানুষ উন্নত ও সুচিকিৎসার আশায় বরিশালে আসেন। আর প্রতারকদের খপ্পরে পরে টাকপয়সা হারিয়ে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা নিয়ে বাড়ী ফিরছেন। তাই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন ও কার্যকর ভাবে মনিটরিং করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃস্টি আকর্ষন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

(Visited 1 times, 1 visits today)





%d bloggers like this: