২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, রবিবার

শিরোনাম
সোমবার শুরু বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবলের জাতীয় পর্ব খুলনায় ৩৯ লাখ জাল টাকাসহ মামুন আটক সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে দুর্বৃত্তের আগুনে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই বরিশালে এলএলবি পরীক্ষায় ২৫ জন বহিস্কার মুঠোফোনে প্রেম, বগুড়ায় এসে সব হারালো গাজীপুরের কিশোরী ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদরাসার ০৭-০৯ ব্যাচ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ১৩তম বন্ধু মিলন উৎসব অনুষ্ঠিত বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরার নৌকাসহ ২৪ শ্রীলঙ্কান গ্রেফতার বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজ: সেঞ্চুরিয়ান আরভিনের উইকেট দিন শেষে স্বস্তিতে টাইগাররা বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

অন্যায়ভাবে জমি,সীমানা দখল,হক নষ্ট, আত্মসাৎকারীর ঠিকানা জাহান্নাম – আপডেট নিউজ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আপডেট নিউজ ডেস্ক: সীমাহীন আশা আর ভোগের নেশা মানুষকে নীতিজ্ঞানহীন করে তোলে। মানুষ অন্যের সহায় সম্পদ আত্মসাৎ করে নিজের ভোগের নেশা মেটাতে চায়। কিন্তু ভোগের নেশা কোনো দিন মেটে না। বরং বাড়তেই থাকে। আর পরিণামে জীবনটা হয়ে ওঠে উত্তপ্ত অগ্নিকুণ্ডের মতো এবং পরকালীন পরিণতি জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যায়। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আদম সন্তান বার্ধক্যে উপনীত হয় আর তার মধ্যে দুটি জিনিস যৌবনপ্রাপ্ত হয়। একটা হল সম্পদের মোহ আর দ্বিতীয়টা দীর্ঘ জীবনের আশা। (বুখারি, মুসলিম)।আমাদের সমাজে আত্মসাতের অসংখ্য নজির দেখতে পাওয়া যায়। পৈতৃক সম্পদ আত্মসাৎ করে ভাইবোনকে বঞ্চিত করছে, স্কুল, কলেজ, ক্লাব, দাতব্য প্রতিষ্ঠান নির্মাণের নামে মানুষের জমি জবরদখল করা হচ্ছে। সরকারের প্রকৌশল দফতরগুলোতে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ রাজনৈতিক ও গুণ্ডাবাহিনীর যোগসাজশে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করছে। মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী অর্থাৎ সব পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দরিদ্র জনসাধারণের সাহায্যের অর্থসহ জাতীয় সম্পদকে পৈতৃক সম্পদের মতো ব্যবহার করছেন। তারা আত্মসাৎকৃত সম্পদ দিয়ে পৃথিবীতে বেশ আয়েশি জীবনের অধিকারী। কিন্তু এ সম্পদই কেয়ামতের দিন তাদের জাহান্নামের অতল গহ্বরে পৌঁছে দেবে। একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) ইবনুল লাতবিয়া নামক এক সাহাবিকে বায়তুল মালের অর্থ আদায়ের জন্য নিয়োগ করেন। তিনি ফিরে এসে আদায়কৃত অর্থগুলো দু’ভাগে ভাগ করে রেখে বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ এগুলো বায়তুল মালের আর এগুলো আমার। মানুষ এগুলো আমাকে হাদিয়া দিয়েছে। তার কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) খুব রেগে গেলেন। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে ডেকে দীর্ঘ এক ভাষণ দিলেন। তিনি (সা.) বললেন, তোমাদের কাউকে আমি সদকা আদায়ের জন্য পাঠালে, সে ফিরে এসে বলে, এগুলো বায়তুল মালের আর এগুলো মানুষ আমাকে হাদিয়া দিয়েছে। সে কি চিন্তা করে দেখেছে, যদি সে বাড়ি বসে থাকত তাহলে মানুষ তাকে হাদিয়া দিত? খোদার কসম! তোমাদের কেউ কেয়ামতের দিন উট কাঁধে করে উঠবে। সে উট চিৎকার করে ডাকতে থাকবে। সে আমার কাছে সাহায্যের জন্য আসবে, কিন্তু সে দিন আমি তার কোনো সাহায্যই করতে পারব না। (বুখারি, মুসলিম) আলোচ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত আত্মসাৎকারী কেয়ামতের দিন আত্মসাৎকৃত বস্তু কাঁধে নিয়ে উঠবে।

অনেকে অন্যের জমি ও সম্পদ আত্মসাৎ করে সেটা বৈধ করার জন্য দলিল তৈরি করে নেয়। কিন্তু যতই দলিল তৈরি করা হোক না কেন আত্মসাৎকৃত জিনিস কোনো দিন হালাল হয় না। মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘আর তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না এবং কোনো মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার উদ্দেশে বিচারকের দরবারে নিয়ে যেও না, তোমরা তো জানো।’ (সূরা বাকারা, ১৮৮ আয়াত) আমাদের সমাজে এমন অনেক দানবীরের সন্ধান পাওয়া যায়, যারা জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করে ধনকুবেরে পরিণত হয়েছেন। আত্মসাৎকৃত সম্পদ দিয়ে স্কুল, কলেজ, সুবিশাল মাদ্রাসা, দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করেছেন, হজ করেছেন বহুবার। শেষ জীবনে মসজিদ-মাদ্রাসা ছাড়া আর কিছুই বোঝে না। সব সময় হাতে তসবিহ আর উঠতে বসতে জিকির। মনে রাখতে হবে এই মসজিদ, মাদ্রাসা, হজ আর জিকির কোনোই কাজে আসবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দশ দিরহাম দিয়ে একটা কাপড় কিনল, যার এক দিরহাম ছিল হারাম। ওই কাপড় পরে তার নামাজ কবুল হবে না। (মুসনাদে আহমাদ)।

সম্পাদনায়- অলিউল্লাহ খাঁন

সহকারী বার্তা সম্পাদক

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network