৪ঠা এপ্রিল, ২০২০ ইং, শনিবার

শিরোনাম
চট্টগ্রামে ৩২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় বাবার সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে দুই ছেলেকে নির্যাতন গৌরনদীতে নাঠৈ রিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আব্দুল মজিদ আর নেই সড়কের পাশে মিলল যুবকের ঘাড়কাটা মরদেহ উদ্ধার করোনা পরিস্থিতিতে জনগণকে নিয়ে উদ্বিগ্ন খালেদা জিয়া, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বন্ধ থাকলে ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ঘরে ঘরে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গেলেন এমপি মহিব পটুয়াখালীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে নিহত ১, আহত ৩ ,গ্রেফতার ১ ঝালকাঠিতে ৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

শামীম মীর।।  যত গোপনে ভালোবাসি পরাণ ভরি/পরাণ ভরি উঠে শোভাতে/যেমন কালো মেঘে অরুণ-আলো লেগে/মাধুরী উঠে জেগে প্রভাতে।’ প্রেমাবেগের তুমুল উচ্ছ্বাস বইয়ে দিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এভাবেই লিখেছেন ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থে।

গোপন গহিন ভালোবাসা প্রকাশের সেইদিন আজ। মনের যত বাসনা, অব্যক্ত কথা ডালাপালা মেলে ছড়িয়ে পড়বে বসন্তের মধুর হাওয়ায়। মনে লাগবে দোলা, ভালোবাসার রঙ্গে রঙ্গিন হবে হৃদয়। ‘হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল’ হয়ে প্রহর কেটেছে যেসব প্রেমপিয়াসির, তাদের মনের না-বলা কথা প্রস্কুটত হবে। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ‘ হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে’।

তবে তরুণ-তরুণী শুধু নয়, নানা বয়সের মানুষের ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দিন আজ। এ ভালোবাসা যেমন মা-বাবার প্রতি সন্তানের, তেমনি মানুষে-মানুষে ভালোবাসাবাসির দিনও এটি। ‘কিন্তু শুধু একটি দিন ভালোবাসার জন্য কেন?’ এ প্রশ্নে কবি নির্মলেন্দ গুণের ছোট জবাব, ‘ভালোবাসা একটি বিশেষ ৭ দিনের জন্য নয়।

সারাবছর, সারাদিন ভালোবাসার। তবে আজকের এ দিনটি ভালোবাসা দিবস হিসেবে বেছে নিয়েছে মানুষ।’ তারুণ্যের অনাবিল আনন্দ আর বিশুদ্ধ উচ্ছ্বাসে সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের মাঝেও ভালোবাসা দিবস পালিত হচ্ছে। ভালোবাসার উৎসবে মুখর আজ সারাদেশ। এ উৎসবের ছোঁয়া লাগবে গ্রাম-বাংলার জনজীবনেও।

মুঠোফোনের মেসেজ, ই-মেইল অথবা অনলাইনের চ্যাটিংয়ে পুঞ্জ পুঞ্জ প্রেমকথার কিশলয় হয়ে উঠবে পল্লবিত। অনেকের মতে, ফেব্রুয়ারির এ সময়ে পাখিরা তাদের জুটি খুঁজে বাসা বাঁধে। নিরাভরণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে ওঠে। তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে ফুল সৌন্দর্যবিভায়। পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়।

এ দিনে চকোলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, ই-মেইল, মুঠোফোনের এসএমএস-এমএমএসে প্রেমবার্তা, হীরার আংটি, প্রিয় পোশাক, জড়াজড়ি করা খেলনা মার্জার অথবা বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার দেয়া হয়। নীল খামে হালকা লিপস্টিকের দাগ, একটা গোলাপ ফুল, চকোলেট, ক্যান্ডি, ছোট্ট চিরকুট আর তাতে দু’ছত্র গদ্য অথবা পদ্য হয়ে উঠতে পারে উপহারের অনুষঙ্গ।

অ্যদিকে আজকের এ ভালোবাসা শুধুই প্রেমিক আর প্রেমিকার জন্য নয়। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত হতে পারে সবাই। চলবে উপহার দেয়া-নেয়া। ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত।

এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদন্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’।

সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ভ্যালেনটাইনস ডে সর্বজনীন হয়ে ওঠে আরো পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে।

দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরো একটি কারণ। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রæয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরানের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এ দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রæয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

আমাদের দেশে দিনটিকে ঘিরে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। রয়েছে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সূচনা সঙ্গীত, ভালোবাসার স্মৃতিচারণ, কবিতা আবৃত্তি, গান, ভালোবাসার চিঠি পাঠ এবং ভালোবাসার দাবিনামা উপস্থাপনসহ আরো নানা কর্মসূচি।

দিবসটি উপলক্ষে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে নানা আয়োজন ।অনুষ্ঠান বিনোদনপিয়াসী নগরবাসীকে দারুণ আকৃষ্ট করে। প্রতি বছরই লক্ষ্য করা যায়,নগরীর মুক্তিযোদ্ধাপার্ক, ত্রিশ গোডাউন, দপদপিয়া সেতু,শিশু পার্ক, বেলেস পার্কসহ নগরের একটি স্থানে দেখা যায় ভালোবাসা দিবসটিকে ঘিরে প্রেমিক-প্রেমিকাদের মেলা। যা চোখে পড়ার মত।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network