৪ঠা জুন, ২০২০ ইং, বৃহস্পতিবার

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন’

আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আপডেট নিউজ ডেস্ক: মহামহিমান্বিত তিনি সর্বময় কর্তৃত্ব যাঁর করায়ত্ত; তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদিগকে পরীক্ষা করার জন্য- কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল। (সূরা : মুলক, পারা: ২৯, আয়াত: ১-২)।
ধৈর্য ধারণকারীর সাফল্য সুনিশ্চিত, কারণ মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা ধৈর্য ধারণকারীর সঙ্গে থাকেন; আর আল্লাহ তায়ালা যার সঙ্গে থাকবেন, তার সফলতা অবধারিত।
পবিত্র কোরআনুল কারিমে আল্লাহ বলেন,
‘ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানুসতাঈনু বিসসবরি ওয়াস সলাতি; ইন্নাল্লাহা মাআস সাবিরিন।’
 
অর্থ: ‘হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সূরা: বাকারা, আয়াত : ১৫৩)।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে আরো বলেছেন, ‘ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানুসবিরু ওয়া সাবিরু ওয়া রাবিতু; ওয়াত্তাকুল্লাহা লাআল্লাহুম তুফলিহুন’
 
অর্থ: ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যের প্রতিযোগিতা করো এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকো। আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। (সূরা : আলে ইমরান, আয়াত : ২০০)।
 
ধৈর্য মানবজীবনে পরীক্ষাস্বরূপ :
 
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন, ‘তাবারকাল্লাজি বিইয়াদিহিল মুলকু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কদির। আল্লাজি খলাকাল মাওতা ওয়াল হায়াতা, লিইয়াবলুওয়াকুম আইয়ুকুম আহ্ছানু আমালা; ওয়া হুওয়াল আজিজুল গফুর।’
 
অর্থ: মহামহিমান্বিত তিনি সর্বময় কর্তৃত্ব যাঁর করায়ত্ত; তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদিগকে পরীক্ষা করার জন্য- কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল। (সূরা : মুলক, পারা: ২৯, আয়াত: ১-২)।
 
ধৈর্যশীলদের জন্য রয়েছে সফলতার সুসংবাদ!
 
ধৈর্যশীলদের বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে আরো বলেন, ‘আমি তোমাদিগকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। তুমি শুভ সংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের, যারা তাদের ওপর বিপদ আপতিত হলে বলে, (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) ‘আমরা তো আল্লাহর এবং নিশ্চিতভাবে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী’। (সূরা : বাকারা, আয়াত: ১৫৫-১৫৭)।
 
আজও আমরা বিপদ-আপদে পড়লে পড়ি, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ (নিশ্চয় আমরা তো আল্লাহরই এবং নিশ্চিতভাবে আমরা তাঁর নিকটেই প্রত্যাবর্তনকারী)। কিন্তু এটি আমরা পড়ি অধৈর্য হয়ে পড়লে তখনই। মূলত আমরা এর দর্শন ভুলে গিয়ে এটিকে প্রথায় পরিণত করেছি।
 
আসলে বিপদ-আপদ, রোগ-বালাই তথা বিভিন্ন মহামারীতে আমাদের অধৈর্য হলে চলবে না। আল্লাহ তায়ালার নিকট সাহায্য চাওয়ার পাশাপাশি বিপদ-আপদ, রোগ-বালাই ও মহামারী থেকে বাচাঁর জন্য আমাদের ধৈর্যের সঙ্গে ফিকিরও করতে হবে।
 
কারণ মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে সূরা আনফালে এ বিষয়ে ইরশাদ করে বলেন, ‘কোনো জাতির ভাগ্য পরিবর্তন আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত করেন না, যতক্ষণ সেই জাতি তার কর্মনীতির পরিবর্তন না করে।’ (সূরা : আনফাল, আয়াত : ৫৩)।
 
ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায় আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় নবী-রাসূলদেরকে বিভিন্ন বিপদ-আপদ, রোগ-বালাই ও মহামারী ইত্যাদির মাধ্যমে ধৈর্য ও ঈমানি পরীক্ষা নিয়েছেন। যদিও রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা ছাড়াই নাজাত দিতে সক্ষম; তথাপি পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের ঈমানি শক্তিকে মজবুত করেছেন। এবং রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালাই যে সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবাদ ও সর্বশক্তিমান তারও নির্দশন দেখিয়েছেন।
 
নিম্নে নবী-রাসূলদের এমনই কিছু ধৈর্য ও ঈমানি পরীক্ষার ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা হলো। আশা করা যায়, এর মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বের মহামারী করোনাভাইরাসে আমরাও ধৈর্য ও ঈমানি পরীক্ষায় সফলকাম হবো। ইনশাআল্লাহ!
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network