২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, বুধবার

উত্তাল লেবানন, বাংলাদেশিদের সতর্কভাবে চলাফেরার পরামর্শ

আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবাননে জরুরি অর্থনৈতিক অবস্থা ঘোষণা, মার্কিন ডলারের সংকট, বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে দ্রব্যপণ্যের উপর মূল্য সংযোজন কর বৃদ্ধি, হোয়াটস অ্যাপের কল রেট বৃদ্ধি ও বর্তমান সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ লেবাননের রাজধানী বৈরুতের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লেবাননে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল এবং আজ শনিবারও তা অব্যাহত ছিল। রাজধানী বৈরুতসহ সমগ্র লেবানন জনগণের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে।

বিক্ষোভকারীরা বৈরুতের রিয়াদ আল-সোলহ চত্বরে সরকারি সদরের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি বড় রাস্তায় টায়ারে আগুন লাগিয়ে ব্যারিকেড দেয়। লেবাননের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা বাহিনীর (আইএসএফ) এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, বিক্ষোভে তাদের চল্লিশ সদস্য আহত হয়েছে। আইএসএফ প্রতিবাদকারীদের ‘বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বলছে, তারা মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরও বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করবে। এই ঘোষণাগুলো দিনের বেলা লেবাননের সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার পর সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং রাতারাতি তা বড় ধরনের বিক্ষোভে রূপ নেয়। বিক্ষোভ চলাকালে আইন শৃংখলা বাহিনী এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরেই বৃহস্পতিবার রাতে সরকার ভিওআইপি ট্যাক্স প্রস্তাব প্রত্যাহার করে লেবানন সরকার।

দেশটি সংবাদগুলোর অনলাইন সংক্ষরণের খবরে বলা হয়, বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার অজুহাতে নিত্যপ্রয়াজনীয় ও ব্যবহারের অনেক কিছুর উপর সরকার কর আরোপ করছে। সবশেষ কর আরোপ করা হয় হোয়াটঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার কলের উপর।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে বৈরুতসহ পুরো লেবাননে বিক্ষোভ শুরু হয়। ছাত্র-জনতাসহ হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ময়লার ড্রাম রাস্তায় ফেলে ব্যারিকেড দেয় এবং টায়ার পোড়ায়। সাধারণ জনগণ ও যানবাহনের ক্ষতিসাধন না করে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ চলে শুক্রবারও।

সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বেসরকারি অফিসগুলো বন্ধ ছিল। রাস্তায় হালকা যানবাহন চলাফেরা করে। বিক্ষোভকারীদের টায়ার জ্বালানো আর নিরাপত্তা বাহিনীর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপে বহু মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় মিডিয়াগুলোর খবরে বলা হয়, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ আল-হারিরি শুক্রবারের মন্ত্রিসভার নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন। তার দলের সাথে যুক্ত একটি ওয়েবসাইট জানিয়েছে, সরকারের সদর দফতরের আশপাশে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হওয়ার পরে মন্ত্রিসভার বৈঠক বাতিল করা হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের মুখোমুখি হয় লেবানন। অর্থনৈতিক সঙ্কটের মাঝেও হাজার হাজার লেবানিজ রাস্তায় নামে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। এজন্য তারা সরকারের কড়া সমালোচনা এবং দোষারোপ করে।

বৈরুতের রিয়াদ আল-সোলহ স্কয়ারের আশপাশে বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল ‘জনগণ সরকারকে পতন করতে চায়’। অনেককে ক্ষুব্ধও হতে দেখা যায়, দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার কারণে।

লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল করিম খান বলেন, ‘কোনো দেশের আভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে মন্তব্য করা বা মতামত দেয়া বা সম্পৃক্ত হওয়ার অধিকার বিদেশি হিসেবে আমাদের মানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নেই। তবে এই পরিস্থিতি নিয়ে আমরা শংকিত। নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।’

লেবাবন ‘প্রবাসী ভাইবো’ সামাজিক সংগঠনের সভাপতি শরীফ খান খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তা-ঘাটে বের না হওয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাস কর্মকর্তারা। সবাইকে সতর্কভাবে চলাফেরার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় এ সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহাত্তর ঘণ্টা সময় চাইলে বিক্ষোভকারীরা তা প্রত্যাখান করে গভীর রাত অবধি রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network