১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

” কাচ্চির ওস্তাদ মাস্টারসেফ হাজী ফজলু “

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আপডেট নিউজ: রান্না একটি শিল্প। শিল্পী যেমন যত্ন নিয়ে তাঁর তুলির ছোঁয়ায় একটি ছবিকে মনের মতো করে ফুটিয়ে তোলেন, তেমনি মনোযোগ দিয়ে রান্না করলে যে কারও মুখে খাবারের স্বাদ দীর্ঘদিন পর্যন্ত থেকে যায়। রান্না আর রন্ধনশৈলী দুটো দুই জিনিস। রান্না করা হয় শুধু খাওয়ার উদ্দেশে। রন্ধনশৈলী ব্যাপারটা হচ্ছে রান্নার স্বাদ থেকে শুরু করে পরিবেশন পর্যন্ত।
একটি সময় ছিল যখন রান্নাবান্না ছিল শুধু ঘরকেন্দ্রিক। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে এখন রন্ধনশিল্প সেক্টর অনেক শক্ত একটা জায়গায় অবস্থান করছে। এই ঘরের মানুষ যখন তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য কোনো পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছেন, তখনই এগিয়ে আসছে রিয়েলিটি শোগুলো। সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন তাঁরা, যাঁরা নিজেদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে চাচ্ছেন। এর কারণ, এর মাধ্যমে অনেকেই পেশা গড়তে পারছেন। তাঁদের জন্য এগিয়ে আসা ব্র্যান্ডগুলোর মাধ্যমে রিয়েলিটি শোর মতো একটা প্ল্যাটফর্মে প্রতিযোগীরা যোগাযোগ তৈরি করেন। সেখান থেকে রন্ধনশিল্পের পেশায় পথচলা শুরুর সুযোগ পান।

এসব রিয়েলিটি শো সাধারণত প্রতিযোগীদের জীবনে কেমন প্রভাব ফেলে, সেই সম্পর্কে বিভিন্ন শেফ এবং বিচারকের মতামত জানতে চাওয়া হলে বিভিন্ন মন্তব্য পাওয়া যায়।
কালে কালে বয়ে গেছে কত দিন, কত বছর, কত যুগ। আধুনিক এই সময়ে হরেক রকম খাবারের সঙ্গে বাঙালির পরিচয় হলেও তুর্কী-মোঘল আমলের কাচ্চি বিরিয়ানি এখনো রাজত্ব করছে সমানে। পুরোনো দিনের সেই মনভোলানো কাচ্চি এখনো যারা বাংলাদেশের মানুষকে খাইয়ে যাচ্ছেন তাদের একজন হাজি মোহাম্মদ ফজলুর রহমান। তার পরিবার ৮৭ বছর ধরে কাচ্চি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত!

এখনও যাঁরা ‘আসল স্বাদের’ কাচ্চি বিরিয়ানি তৈরি করার ধারা বজায় রেখেছেন তাঁদের অন্যতম হলেন বাংলাদেশের হাজী ফজলুর রহমান। তিনি তাঁর বাবা ইসমাইল মিল্লার কাছে শিখেছিলেন কীভাবে আসল কাচ্চি বিরিয়ানি বানাতে হয়। প্রায় ৮৭ বছর আগে ব্যবসা শুরু করেছিলেন ইসমাইল। এখন ফজলুর রহমান ঢাকার মহম্মদপুর এলাকার বসিলায় নিজস্ব ক্যাটারিং ব্যবসা চালান। যাঁর তৈরি বিরিয়ানিতে মজেছেন বাংলাদেশের আমজনতার মতই প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং বিদেশি অভ্যাগতরাও।
কাচ্চি বিরিয়ানি খাইয়ে তৃপ্ত করা ফজলুর রহমান ফজলুল হক পুরস্কার, মহাত্মা গান্ধী পুরস্কার সহ একাধিক সম্মান পেয়েছেন। তাঁর ক্যাটারিং ব্যবসার নাম নাম দিয়েছেন ‘মাস্টারশেফ হাজি মহম্মদ ফজলুর রহমান ক্যাটারিং’।
৬৬ বছর বয়সী ফজলুর রহমানের৷

কাচ্চি ইতিহাসের সঙ্গে এতটাই জড়িয়ে যে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক স্মৃতি সম্মাননার পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধী পুরস্কার পেয়েছেন। ফজলুর রহমান এখন ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় ক্যাটারিং ব্যবসা শুরু করেছেন। কোম্পানির নাম দিয়েছেন ‘মাস্টারশেফ হাজি মোহাম্মদ ফজলুর রহমান ক্যাটারিং’।ফজলুর রহমানের বাবা ইসমাইল মিয়া মূলত কাচ্চি রান্নার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। আট দশকের বেশি সময় আগে তিনি জনপ্রিয় এই খাবার নিয়ে কাজ শুরু করেন। তৎকালীন নবাব বাড়ির শেফ থাকা অবস্থায় পরিচিতি পান। পরে হোটেল পূর্বানীতেও কাজ করেন।
ইসমাইল মিয়া মারা যাওয়ার আগে ফজলুর রহমানকেও দক্ষ করে গড়ে তোলেন। এখন ফজলুর রহমান তার দুই ছেলে মোহাম্মদ শফিকুর রহমান এবং মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে দিয়েছেন ক্যাটারিং সার্ভিসের দায়িত্ব।
করোনার সময় ফজলুর রহমানের ক্যাটারিং সার্ভিস বেশ থমকে ছিল। লকডাউনের সময় কর্মী সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনেন তারা। এখন আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আগস্টে মোট কর্মী দেখা গেছে ২২ জন।

শুরুতে শুধুমাত্র বড় বড় অনুষ্ঠানের অর্ডার নিলেও এখন ব্যবসায়িক কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে ছোট অর্ডারও (সর্বনিম্ন ১৬ জন) তারা নিচ্ছেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network