১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, শনিবার

বুলবুল’র আঘাতে লন্ডভন্ড বানারীপাড়ার এ.বি.সি ব্রিকস

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আপডেট নিউজ :
ঘুর্নিঝড় বুলবুল’র তান্ডবে নিঃস্ব প্রায় বানারীপাড়ার মেসার্স এ.বি.সি ব্রিকস্ এর কর্তৃপক্ষ। সৃজনের শুরুতেই প্রতিবছরের ন্যায় ইটভাটা প্রস্তত করে এবিসি ব্রিকস। পাঁচ শতাধিক শ্রমিক নিয়ে শুরু হয় ইট তৈরির কাজ। ১৪ লক্ষাধিক ইট তৈরি এমন সময় ধেয়ে আসে ঘুর্নিঝড় বুলবুল। আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে ইট সংরক্ষনের জন্য পাঁচলক্ষাধিক টাকার পলিথিন ক্রয় করে ভাটা মালিক আঃ সালাম গোলন্দাজ। ইট রক্ষায় সকল চেষ্টাকেই ব্যর্থ করে সালাম গোলন্দাজের মাথায় ঋনের বোঝা ভারী করে দিয়ে বিদায় নিল ‘বুলবুল’। অগ্রিম ইট বিক্রি, ব্যাংকের ঋন অপরদিকে পাঁচ শতাধিক শ্রমিকের ভরন পোষনে বেগ পেতে হচ্ছে সালাম গোলন্দাজকে। ‘বুলবুলের’ গ্রাসে ক্ষতিগ্রস্থ ইট অপসারনের জন্য আরো ২০ লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন। প্রায় বিশ একর জমির উপরে প্রতিষ্ঠিত এ.বি.সি ব্রিকস্ নামে আঃ সালাম গোরন্দাজের দুটি ইটভাটা। বানারীপাড়া উপজেলার কাজলাহাট এলাকায় অবস্থিত এই ইটভাটা দুটি জিক জ্যাগ পদ্ধতিতে ইট তৈরী করে। এ ভাটা হতে প্রতিবছর উৎপাদন অনুযায়ী ৪ লক্ষাধিক টাকার আয়কর ও ৭লক্ষাধিক টাকার ভ্যাট প্রদান করা হয় বলে জানান কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে দেখা যায়, ইটভাটা হতে বুলবুল’র তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ ইট অপসারনের কাজে ব্যস্ত রয়েছে শতশত শ্রমিক। কেহ অপসারন করছে কাঁচা ইট গোলানো মাটি কেহ সরাচ্ছে পলিথিন। এক কথায় ঘুরে দাড়ানোর শেষ চেষ্টা চালাচ্ছে ভাটার মালিক ও শ্রমিকরা। ধংস স্তপের মাঝে দাড়িয়ে ইট ভাটা কর্তৃপক্ষকে দিনের অনেকটা সময়ই পাড় করতে হচ্ছে পাওয়ানাদারদের সাথে কথা বলে। এই প্রতিবেদকের কথা হয় ইট ভাটায় অগ্রিম ৪লক্ষ ইট ক্রয়ের জন্য ২৮ লক্ষ টাকা প্রদানকারী শফিকুল ইসলাম পান্নুর সাথে। তিনি জানান, নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইট পাওয়ার জন্যই ইটভাটায় অগ্রিম টাকা বিনিয়োগ করি। বুলবুল’র কারনে সময় মত ইট না পাওয়ায় আমি ব্যবসায়িক ভাবে বিরাট ক্ষতির সম্মুখিন হবো। কথা হয় মিসেস গোলন্দাজের সাথে তিনি বলেন আমরা ভারাক্রান্ত ও হতাশ। ইট তৈরিতে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি পাওনাদারদের তাগাদায় দিশেহারা আমরা। তিনি আরো জানান, দির্ঘদিনের এ প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে ইট সরবারহ করে আসছিলো। “বুলবুল” আমাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিল এখন আল্লাহ ভরসা। স্থানীয়রা জানান, মেসার্স এ.বি.সি ব্রিকস্ আমাদের এই এলাকার ভাগ্যের পরিবর্তন এনে দিয়েছে। এই ইটভাটা তৈরির পর হতে এখানে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটে। সৃষ্টি হয়েছে কাজলাহার বাজার। বুলবুল’র গ্রাসে ভাটা দুটি ধংসস্তপে পরিনত হয়েছে। এ ব্যপারে ইটভাটার ম্যানেজার মোঃ দুলাল হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আঃ সালাম গোলন্দাজ শারিরিকভাবে অসুস্থ’। ‘তারপরে ঘূর্নিঝড়ের ফলে সৃষ্ট আঘাতে মানুসিক ভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছেন’। ‘ঘূর্নিঝড় বুলবুল’র আঘাতে ক্ষতির ১৪লক্ষ ইট ( ৮৪লক্ষ টাকা) পলিথিন ৫লক্ষাধিক টাকার পাশাপাশি শ্রমিকদের অগ্রিম দাদন দেয়ায় এই মূহুর্তে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অপরদিকে মাঠ নতুন ভাবে প্রস্তত করতে আরো ২০ লক্ষাধিক টাকা প্রয়োজন। আমরা প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলের হাত হতে ঘুরে দাড়াতে সংসিøষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এব্যাপরে বানারীপাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা বলেন ‘ বুলবুলের তা-বে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা হচ্ছে’।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network