১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, বৃহস্পতিবার

চরমোনাই পীর সৈয়দ ফজলুল করীম (রহঃ) এর আজ ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আপডেট নিউজ বিডি ২৪.কম: ইসলামী রাজনৈতিক দল ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সাবেক আমীর মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম রহ. এর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৩৫ সালে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাওলানা সৈয়দ ইছহাক রহ. ছিলেন চরমোনাই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা। ৫ পুত্রের মধ্যে মেঝ পুত্র সৈয়দ ফজলুল করীমকে পিতা নিজের খেলাফত প্রদান করেন।সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. বাল্যকালে বাবার প্রতিষ্ঠিত চরমোনাই আহসানাবাদ রশীদিয়া আলিয়া মাদরাসা থেকে ফাজিল পাস করেন। ১৯৫৭ সালে ঢাকার ঐতিহ্যবাদী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লালবাগ জামিয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া থেকে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করেন।তিনি তৎকালীন বিশ্বখ্যাত আলিমদের থেকে জ্ঞানার্জন করেন। তন্মধ্যে অন্যতম আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ., মাওলানা মুহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ., শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ., মাওলানা মুফতী আবদুল মুহিত রহ., মাওলানা আবদুল মজিদ ঢাকুবী রহ. প্রমুখ।

শিক্ষকতার জীবনে ১৯৫৭ সালে সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. শিশুকালের বিদ্যাপীঠ চরমোনাই আহসানাবাদ রশিদিয়া আলিয়া মাদরাসাতেই মুহাদ্দিস হিসেবে নিযুক্ত হয়ে টানা ১২ বছর শিক্ষকতা করেন। হাদিস, তফসির, ফিকহ, উসুল ইত্যাদি সব ধরনের কিতাবই তিনি পড়াতেন। শামায়েলে তিরমিজি সহ নুরুল আনওয়ার, হেদায়া, মেশকাত ছিলো তাঁর পাঠদানের সূচিতে। উপরন্তু মাঝে মধ্যে বোখারী শরীফের দরসও দিতেন।অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালননার্থে সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. পিতা ইসহাক রহ. এর তরিকার খিদমত আঞ্জাম দেয়ার জন্য ‘বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি’ গঠন করেন।ছাত্র জীবনে সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. পিতার সাথে নেজামে ইসলামী পার্টির রাজনীতিতে স্বক্রিয় হন। অতঃপর তিনি হাফেজ্জী হুজুরের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব প্রাপ্ত হন।১৯৭৩ সালে পিতা সৈয়দ ইছহাক রহ. ইন্তেকাল করলে তিনি তার বাবার স্থলাভিষিক্ত হন।জনকল্যাণমূলক সেবা করার নিমিত্তে তিনি নাছিরে মিল্লাত নামে একটি ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ৪০ বছর পর্যন্ত দেশের গ্রাম-গঞ্জে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি তিনি সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপসহ এশিয়ার প্রায় সকল রাষ্ট্রে সফর করেছেন।

১৯৮৭ সালে ১৩ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তৎকালীন আলিমদের নিয়ে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে পরিচিত। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি এ সংগঠনের সাথে থেকে আমীর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।মাওলানা ফজলুল করীম রহ. বিভিন্ন ভ্রান্ত আকিদা ও নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আপোষহীনভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে স্বক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময়ে বিতর্কিত ইসলাম বিরোধী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্লাটফর্ম সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়কারী এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ফতওয়া বিরোধী রায় বাতিলের দাবীতে কাফনের কাপড় নিয়ে দলীয়ভাবে সারাদেশে আন্দোলন করেন।

হজ্ব মৌসুমে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে প্রদানকৃত এক ভাষণে তিনি বর্তমান সাম্রাজ্যবাদের তৈরি জাতিসংঘের পরিবর্তে মুসলিম দেশগুলোকে মিলে ইসলামী জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার জন্য আহবান জানিয়েছিলেন।৭১ বছর বয়সে ২৫শে নভেম্বর ২০০৬ সালে সকাল ৯টায় চরমোনাই মাহফিলের আগের দিন নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network