১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, বৃহস্পতিবার

রাজশাহী সীমান্তে চৌকি স্থাপন করলো ভারতীয় বিএসএফ

আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্ক: অবৈধভাবে দেশের রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সীমান্তের জিরোলাইন বা নোম্যান্সল্যান্ডের ওপরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একটি চৌকি স্থাপন করেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।গত শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) গভীর রাতে গোদাগাড়ীর সাহেবনগর সীমান্তে বিএসএফ এ অবৈধভাবে এ চৌকিটি স্থাপন করেন।

এলাকাবাসী বলছেন, বিএসএফ যেখানে চৌকিটি স্থাপন করেছে সেই জায়গাটি বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরেই পড়ে। বিএসএফ সেখানে অবস্থান নিয়ে থাকছেন। বিজিবি গেলে তারা পালিয়ে যাচ্ছেন। বিজিবির কোম্পানি পর্যায়ে ইতিমধ্যে প্রতিবাদ জানাতে চিঠি ও বার্তা পাঠালেও বিএসএফ চিঠি ও বিশেষ বার্তা গ্রহণ করেনি।এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সাহেবনগর সীমান্ত ফাঁড়ির এক কিলোমিটার পূর্ব পাশে পদ্মা নদী থেকে বের হয়ে একটি কাটা নদী উত্তর থেকে দক্ষিণমুখী হয়ে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার চরলবণগোলা এলাকায় ঢুকেছে। কাটা নদীটির ভাঙনে সেখানকার সীমানা পিলারগুলো গত বছরই নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সম্প্রতি কাটা নদীটিতে পানি কমে গিয়ে পশ্চিমপ্রান্তে বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে ছোট একটি চর পড়েছে।

নোম্যান্সল্যান্ড সংলগ্ন চরটিতে গিয়ে কিছু দিন ধরে বিজিবি সদস্যরা টহল করতেন। চরটি বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত বলে নৌকা ছাড়াই পায়ে হেঁটেই বিজিবি সেখানে যাতায়াত করতেন।এদিকে শুক্রবার রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী  বিএসএফ সদস্যরা অবৈধভাবে ইঞ্জিন নৌকাযোগে চরটিতে গিয়ে রাতারাতি সেখানে বাঁশের মাচা পেতে ওপরে খড় ও পাটকাঠি দিয়ে একটি অস্থায়ী চৌকি তৈরি করেন। পর দিন শনিবার সকাল থেকে ভারতের চরলবণগোলা ফাঁড়ির বিএসএফ সদস্যরা সেখানে অবস্থান ও টহল করতে শুরু করেন।

এলাকাবাসী আরও জানান, বিজিবি সদস্যরা রবিবার দিনেরবেলায় একবার ও রাতেরবেলা আরেকবার চরের কাছাকাছি গিয়ে চলে যাওয়ার সিগন্যাল দিলে বিএসএফ সদস্যরা চৌকি ছেড়ে পালিয়ে যান।

রাতে আবারও নৌকা সহযোগে গিয়ে বিএসএফ সদস্যরা চরে ওঠার চেষ্টা করলে খবর পেয়ে বিজিবি চরে গিয়ে অবস্থান নেন। ফলে বিএসএফ নৌকা ঘুরিয়ে ভারতের ভেতরে চলে যায়।

তবে গভীর রাতে বিএসএফ আবারও চরের অবৈধভাবে অস্থায়ী চৌকিতে গিয়ে অবস্থান নেয়। সোমবার সকালে বিজিবি সেখানে গেলে বিএসএফ চর ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।বিজিবি সূত্র বলছে, বিএসএফ সদস্যদের এই লুকোচুরিতে তারা বিরক্ত। এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে গিয়ে চৌকিটি ভেঙে ফেলার জন্য বিজিবিকে চাপ দিচ্ছে। তবে তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো ঘটনা না ঘটাতে বিজিবি গ্রামবাসীকে নিষেধ করেছে।অন্যদিকে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, নতুন এই চরটির সঙ্গে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড সংযুক্ত। চরের আশপাশে রয়েছে বাংলাদেশের ফসলি জমি, যেখানে কৃষকরা নিয়মিত চাষাবাদের কাজ করতেন।কিন্তু শুক্রবার রাত থেকে বিএসএফ অবৈধভাবে চৌকি তৈরি করার পর থেকে কৃষকরা জমিতে যেতে পারছেন না। কৃষকরা তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে চরে অস্থায়ী চৌকি তৈরির জন্য বিজিবির কাছে দাবি করেছেন।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নোম্যান্সল্যান্ড থেকে নিজ নিজ সীমানার ১৫০ গজ ভেতরে চৌকি করার নিয়ম। হঠাৎ গড়ে ওঠা এই চৌকিটা দেখতে পেয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের চরলবণগোলা কোম্পানিকে চিঠি ও বিভিন্ন মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিএসএফ কোনো চিঠি গ্রহণ করেনি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network