২৫শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, শনিবার

সাড়ে ৬ বছর পর ইন্দুরকানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

আপডেট: ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আপডেট নিউজ : আগামী ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। আর এ সম্মেলনকে ঘিরে কোন্দলে বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নেই অতীতের মতো প্রাণচাঞ্চল্যতা। মাঠপর্যায়ের সাধারণ কর্মী সমর্থকদের মাঝেও এ নিয়ে নেই কোনো উৎসাহ উদ্দীপনা। তবে সম্মেলনকে ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে পদপ্রত্যাশী নেতারা।

জেলা পর্যায়ের নেতারা সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর দলের শীর্ষ পদ পেতে ইতোমধ্যে দলীয় ফোরামে বেশ ক’জন নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ জেলা থেকে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ড পর্যন্ত লবিং শুরু করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূলে আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর তাগিদ দেয়ার পর মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয় সারা দেশব্যাপী। এ লক্ষ্যে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ ৭টি উপজেলার সম্মেলনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করে। এতে আগামী ১৭ ডিসেম্বর ইন্দুরকানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। আর তাই নির্ধারিত তারিখে উপজেলা সম্মেলন উঠিয়ে নেয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং তিনটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠনের জন্য ৯ ডিসেম্বর উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা আওয়ামী লীগ একটি বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করে। ওই সভায় ১৭ ডিসেম্বর এর আগে মেয়াদ উত্তীর্ণ বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১০ ডিসেম্বর থেকে ৩টি ইউনিয়ন এবং ১৯টি ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হলেও ওই ওয়ার্ডগুলোতে পদপ্রত্যাশী নেতাদের সাথে সমঝোতা না হওয়ায় এখন পর্যন্ত বালিপাড়া ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডের কমিটি আপাতত স্থগিত রয়েছে।

এদিকে, ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হয়। এর আগের সম্মেলন ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অর্থাৎ দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সম্মেলন। তবে আগামী ১৭ ডিসেম্বর সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি চূড়ান্ত না হলে পিছিয়ে যেতে পারে সম্মেলন এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

উপজেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নে নতুন কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হলেও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে নানা ক্ষোভ আর হতাশা। দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান গ্রুপিংয়ের কারণে এক গ্রুপের নেতাকর্মীদের হাতে অন্য গ্রুপের নেতাকর্মীরা হামলা-মামলার শিকার হওয়া, ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন, ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়া, ক্লিন ইমেজের নেতাকর্মীদের দূরে ঠেলে রাখা, নিজস্ব বলয় তৈরী করতে মূল দল ছাড়াও সহযোগী সংগঠনগুলোতে অনুপ্রবেশকারীদের দলে স্থান দেওয়া এবং সুবিধাবাধীদের আধিপত্য বিস্তারের নানা অভিযোগের কারণে এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান একেবারেই নড়েবড়ে হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দুটি গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি চলতে থাকায় কেউ কেউ সংগঠন ছেড়ে দিয়েছেন। আবার অনেকেই দলীয় কার্যক্রম থেকে নিস্ক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে, গ্রুপিংয়ের সুযোগ নিয়ে কৌশলে দলের বিভিন্ন কমিটিতে বিরোধী ঘরাণার লোকজনও ঢুকে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। আর এসব কারণে ভেঙে পড়ে দলের চেইন-অব-কমান্ড। দূরত্ব বাড়ে নেতৃত্বে থাকা নেতৃবৃন্দের সাথে মাঠ পর্যায়ের পোড়খাওয়া কর্মী-সমর্থকদের। আর এ জন্য ত্যাগীদের মধ্যে অনেকেই রাজনীতির মাঠ ছেড়ে নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্য আর ঘর সংসার সামলাতে ব্যস্ত সময় পার করেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দলের সভাপতি-সম্পাদক পদ পেতে এখন পর্যন্ত নয়জন নেতা দোড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এরা হলেন- ২০০৬ সাল থেকে টানা ১৩ বছর ধরে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম মতিউর রহমান, থানা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সোবারক আলী হাওলাদার, বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ হাওলাদার।

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৃধা মো. মনিরুজ্জামান, সহ সভাপতি মাহামুদুল হক দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, তথ্য ও গবেষণা  সম্পাদক বজলুর রহমান মিন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য সাইদুর রহমান সাঈদ এবং পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সিকদার রয়েছেন আলোচনায়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বজলুর রহমান মিন্টু বলেন, তৃণমূল আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা চায় নতুন নেতৃত্ব। তাই শীর্ষ পদগুলোতে পরিবর্তন এখন সবার সময়ের দাবি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ সভাপতি মাহামুদুল হক দুলাল বলেন, দলের দুঃসময়ে আমি সবসময় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। আমি কখনো দলের বিতর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলাম না। তাই সবার সাথে আমার সুসম্পর্ক থাকায় মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং দলীয় হাই-কমান্ড আমার প্রত্যাশিত পদের মূল্যায়ন করবে বলে আশা রাখি।

ইন্দুরকানী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক মোবারক আলী হাওলাদার বলেন, আমি এর আগে থানা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিন আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছি। এছাড়া একবার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলাম। এবার আমি সভাপতি পদ প্রত্যাশী। কাউন্সিল হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাকে মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস।

উপজেলা আ.লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মৃধা মো, মনিরুজ্জামান বলেন, আগামী সম্মেলন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিএনপি জামায়াতের সাথে যাদের যোগসাজস রয়েছে এবং বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীরা নতুন এ কমিটিতে স্থান পাবে না। ত্যাগী এবং ক্লিন ইমেজের নেতা নির্বাচনই আমাদের সবার লক্ষ্য।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট এম মতিউর রহমান বলেন, পারস্পারিক মতবিরোধ ভুলে সবাইকে নিয়েই এক সাথে কাজ করতে চাই। সম্মেলনের মাাধ্যমে নতুন কমিটি হলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে এবং যারা সংগঠনের পিছনে শ্রম দিয়েছেন সেসব ত্যাগী নেতাকর্মীরাই নতুন কমিটিতে স্থান পাবেন। তবে বিতর্কিত, দুস্কৃতিকারী, দলছুট, অনুপ্রবেশকারী এবং দলের নীতি আদর্শ পরিপন্থী লোকজন কমিটিতে যাতে না ঢুকতে পারে সে ব্যাপারে কেন্দ্রের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো জানান, দুই তিন দিনের মধ্যে সবকিছু গুছিয়ে না উঠতে পারলে সম্মলনের তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে বলে সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network