২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, রবিবার

জুমার দিনের ফজিলত ও দোয়া কবুলের সময়

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আপটেড ডেস্ক: আজ শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর ) পবিত্র জুমার দিন। অন্যান্য দিনের চাইতে জুমার দিনই অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জুমার দিনের বহু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, শপথ গ্রহ-নক্ষত্রের কক্ষপথবিশিষ্ট আকাশের। এবং প্রতিশ্র“ত দিবসের। এবং সেই দিবসের যে উপস্থিত হয় এবং যাতে উপস্থিত হয়। (বুরুজ-১-৩)বিভিন্ন হাদিস শরিফেও জুমার দিনের অনেক ফজিলত ও তাৎপর্য বর্ণিত হয়েছে।

একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সূর্য উদিত হয় এমন সব দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এদিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এদিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। আবার এদিনেই তাকে তা থেকে বেরও করা হয়েছে। জুমার দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (তিরমিজি) জুমার দিনে মৃত্যুবরণের বিশেষ ফজিলতও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত। হজরত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, যে মুসলমান জুমার দিনে বা রাতে মারা যায় আল্লাহতায়ালা তাকে কবর আজাব থেকে রক্ষা করেন। (তিরমিজি-১/১০৫)

হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত- হজরত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, যে মুসলমান জুমার দিবসে বা রাতে মারা যায় তাকে কবরের আজাব থেকে মুক্তি দেয়া হয় এবং কিয়ামত দিবসে সে শহীদের মোহর লাগানো অবস্থায় উপস্থিত হবে। (শরহুস সুদুর : ২০৯)

হজরত আতা ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত- হজরত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, কোনো মুসলমান নর-নারী জুমার দিনে মৃত্যুবরণ করলে কবরের আজাব ও কবরের ফেৎনা থেকে মুক্তি পায়। এবং সে আল্লাহর সঙ্গে এমতাবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে তার কোনো হিসাব থাকবে না।

হজরত আওস ইবনে আওস থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, যে জুমার দিনে সকাল সকাল গোসল করে এবং (নিজ স্ত্রীকে) গোসল করায় তারপর ইমামের কাছে গিয়ে বসে চুপ করে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে তার প্রত্যেক কদমের বিনিময়ে রয়েছে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব। (তিরমিজি)

জুমার দিনে বিশেষ একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে সময় আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করে থাকনে। মুহূর্তটি সম্পর্কে মতভেদ থাকলেও দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়ে বিতর্ক নেই। এ সময় সম্পর্কে ৪৩টি অভিমত পাওয়া যায়।

যার মধ্যে থেকে কয়েকটি তুলে ধরা হলো-

১. ইমাম যখন খুৎবা দেন।

২. জুমার নামাজে সুরা ফাতিহার পর ‌আমিন বলার সময়।

৩. আসর হতে মাগরিব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে।

৪. মুয়াজ্জিনের আজানের সময়।

৫. সূর্য ঢলে পড়ার সময়।

৬. ইমাম খুৎবা দেয়ার জন্য মিম্বরে ওঠার সময়।

৭. উভয় খুৎবার মধ্যবর্তী বসার সময়।

৮. জুমার দিন ফজরের আজানের সময়।

৯. একেক জুমার একেক সময়।

১০. বছরের কোনো এক জুমার দিনে ওই মুহূর্তটি রয়েছে।

হাদিসে এসেছে-হজরত আবু দারদা ইবনে আবু মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে বলেছেন, এটা ইমামের মিম্বরে বসার সময় হতে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টাই। (মুসলিম, মিশকাত)

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network