২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, শুক্রবার

কেরানীগঞ্জের রোহিতপুরে দাফনের ১৬ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্কঃ ঢাকার কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর ইউনিয়নে মুগারচর এলাকা থেকে কোর্টের নির্দেশে দাফনের ১৬ দিন পর সালেহা বেগম (৪৬) নামে এক নারীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান টিটু ও রোহিতপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল আলীর উপস্থিতিতে পুনরায় তদন্তের জন্য লাশটি উত্তোলন করা হয়।

বাদী মামলার এজহারে যা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মৃত সালেহা বেগমের পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল প্রতিবেশী জিয়ার উদ্দীন (৫০) গংদের সঙ্গে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ সকাল ১১.৩০ এ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বিবাদীরা সালেহা বেগমের বাসায় এসে তার ওপর হামলা করে। সালেহা বেগমের ছেলে ও মামলার বাদী সালাউদ্দিন (২৭) ও তার স্ত্রী ফারজানা (২১) সালেহা বেগমকে বাচাতে আসলে তাদেরকেও আহত করে বিবাদীরা। তাদেরকে মেরে বাড়ি থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা নিয়ে যায় আসামিরা।

পরে এলাকাবাীর সহযোগীতায় সালেহা বেগমকে মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে আনার পরে আসামিরা আবারো ভয় দেখালে পর দিন ১২ জানুয়ারি সালেহা বেগম পুনরায় অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে চিকিৎসার জন্য কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এর দুই দিন পর ১৪ জানুয়ারি বেলা ২টা ৩০ মিনিটে তার ছেলে সালাউদ্দিন বাদী হয়ে পাঁচজনের নামে আরো পাঁচজনের বেনামে আসামি করে কেরানীগঞ্জ মডেল থনায় একটি হত্যা মামলা দয়ের করে। সেদিন রাতেই পুলিশ মামলার এজাহার নামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পর দিন আদালতে প্রেরণ করেন।

এদিকে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে অভিযোগ এটি সম্পূর্ণ একটি সাজানো মামলা। সালেহা বেগম যেদিন মারা যায় সেদিন তারা কেউ কিছু বলল না। অথচ এতদিন পরে এসে বলছে এটা হত্যাকাণ্ড। এটা তো যুক্তি ছাড়া কথাবার্তা। আবুল হোসেন নামের এক মুরব্বি জানান, সালেহা দীর্ঘদিন যাবৎ লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন, সে লিভার নষ্ট হয়ে মারা গেছে, সালেহা মারা যাওয়ার পর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তার নামাজে জানাজা ও দাফন কাফন সম্পন্ন হয়।  এখন ওর ছেলে মেয়েরা বিষয়টিকে অন্য দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

মামলার ৫নং আসামি সাইফুলের শ্বশুর মো. লেহাজ উদ্দিন বলেন, আমার মেয়ের জামাই একজন সিএনজি চালক। যেদিনের ঘটনা সেদিন পুলিশের সঙ্গে তার ডিউটি ছিল, তার প্রমাণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ নিজেই। শুধু শুধু সাইফুলকে হয়রানি করার জন্য এ মামলা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা যতদূর জেনেছি মারপিট করার সময় সালেহা বেগম কোনো আঘাতও পায় নাই এবং কোনো হাসপাতালে চিকিৎসাও নেয় নাই। তাহলে এটা কিভাবে হত্যা মামলা হয়। পুলিশ ভালো করে তদন্ত করলেই সঠিক রহস্য বের করতে পারবেন বলে আমি আশা করছি।

একটি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় ১১ ডিসেম্বর ১৯ সালে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মারপিট করে হাসপাতাল হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সে অভিযোগের তদন্তভার ছিল তৎকালীন সোনাকান্দা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. অমিরুল ইসলাম। তিনি সরজমিন তদন্ত করে বর্তমান আসামি পক্ষকে আদালতে পাঠান। বর্তমান বাদী পক্ষকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তখন তারা মামলা করবে না বলে জানিয়ে একটি সাদা কাগজে মুচলেকা দিয়ে মিমাংসা করার কথা বলে চলে যায়। ঘটনার দীর্ঘ এক মাস পর সালেহা বেগম মারা গেলে নিহতের ছেলে-মেয়েরা বিবাদীদের ফাঁসানোর জন্য মায়ের মৃত্যুকে হত্যা সাজিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলী জানান, সালেহা বেগম মারা যায় তখন হত্যা করা হয়েছে এমন কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। এটা যদি হত্যা করা হয়ে থাকে তাহলে পুলিশকে না জানিয়ে কেন কবর দেওয়া হলো। আজকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে আশা করি সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আসাদুজ্জামান টিটু বলেন, মামলার তদন্তকরী কর্মকর্তার তদন্তের স্বার্থে বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করলে আদালত কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য অনুমতি দেন। সেই লক্ষে গতকাল মঙ্গলবার কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল জানান, সঠিক তদন্তের স্বার্থে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network