অনলাইন ডেস্কঃ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যাওয়া যুবকের লাশ দাফনে মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার খাটিয়া ছাড়া দুই ভাই ও বাবার কাঁধে করে লাশ দাফন করতে নিয়ে যাওয়ার একটি ছবি ফেইসবুকে ভাইরাল হয়; বুধবার এ যুবকের দাফন করা হয়।
মৃতের স্বজনরা জানান, গত মঙ্গলবার রাতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় লক্ষীপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামে জ্বর, গলা ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সিলেটের এক ইটভাটা শ্রমিক মারা যান। করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ায় তার নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এরপর স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবারের লোকজন লাশ দাফনের উদ্যোগ নেয়। তবে লাশ বহনের জন্য গ্রামের মসজিদের খাটিয়া ব্যবহারে বাধা দেয় গ্রামবাসী। এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে কিছু দূরের কবরস্থানে মৃতের দুই ভাইসহ বাবা লাশ কাঁধে করে নিয়ে গিয়ে দাফন করেন বলে জানান তারা।
তবে লক্ষীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, “লাশ বহনের কাজে ব্যবহার করার জন্য আমরা একটি লাশ বহনের বাক্স ও পলিথিন দিয়েছিলাম। মৃতের পরিবার তা ব্যবহার করেনি।
“শুনেছি দুই ভাই ও বাবা কাঁধে নিয়ে কবরে লাশ দাফন করেছে।”
মৃত যুবকের বাবা বলেন, “গ্রামের মেম্বারসহ কয়েকজন মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করতে দেননি। পরে বাধ্য হয়ে অন্য জায়গা থেকে খাটিয়া নিয়ে আসি, সেটিও তারা ব্যবহার করতে দেননি, তারা সেটি নিয়ে যায়।
“পরে আমাদের মরদেহ কাঁধে নিয়ে কবরস্থানে দাফন করতে হয়েছে।”
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, “আমরা পানি দিলেও স্বাস্থ্য বিভাগ আমার ছেলেকে দাফনের আগে গোসল করায় নি, তারা লাশ বহন করে কবরস্থানেও নিয়ে যায়নি।”
মৃত ওই যুবকের মা বলেন, আমার ছেলে মারা গেছে কিন্তু কেউ আগাইয়া আইছে না। স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশের লোকজন আইয়া আমার ছেলের শরীরও একটা পাউডার ছিটাইয়া দিছে আর একজন হুজুর আনছে কিন্তু আমার ছেলেরে গোসল করাইছে না। আমি তারারে পানি আনিয়া দিলেও তারা আমার ছেলেরে গোসল করায় নাই তারা।
তিনি বলেন, আমার ছেলের লাশ কেউ হাত দেয়নি সবকিছু তার বাবা ও ভাইরা সবকিছু মিলেই করছে। আমার ছেলেরে খাটিয়া তুলতে দিসে না মেম্বারে। আমারে গালিগালাজ করছে কেনে আমি ছেলেরে খাটিয়া তুলার কথা কইলাম।
এদিকে তার বাবা জইবুর মিয়া বলেন, আমার ছেলের মারা যাওয়া পর মেম্বার আমাকে বলে লাশ যেন কিছু না করি। পরদিন পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোক আইসা আমার ছেলের শরীরের নমুনা নেয় কিন্তু পরবর্তীতে তারা আমার ছেলেরে খাটিয়া তুলতে দিসে না। যারা আইছিল তারা তাড়াহুড়া করছে। পরে আমি আর আমার দুই ছেলে মিলিয়া তারে দাফন করি আর সবাই দূরে দাঁড়াইয়া রইছিল।
এ অভিযোগের ব্যাপারে লক্ষীপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শরিফ উল্লাহ বলেন, “মারা যাওয়া যুবকের পরিবারের লোকজন আমাদের সঙ্গে উল্টো খারাপ ব্যবহার করেছে।
“তারা দাবি করেছিল-তাদের ছেলের মৃত্যুকে ‘করোনাভাইরাসের নাম দিয়ে সমাজে হেনস্তা করা হচ্ছে।”তবে তিনি মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন সুমন জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যুবকের লাশ দাফন করা হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা বলেন, “বিষয়টি শুনেছি, এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।”
বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত মারা যাওয়া যুবকের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল জানা যায়নি।