আন্তর্জাতিক: ভারতের বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশে কোয়ারেন্টাইন শেষে এবার তাবলিগ জামাত সদস্যদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিদেশ থেকে আসা ওই তাবলিগ সদস্যরা পাসপোর্ট ও ভিসার নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ।
তাবলিগ জামাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা সম্প্রতি দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে ছিলেন তাদের মধ্যে বেশ কিছু মানুষ করোনা আক্রান্ত হলেও উত্তর প্রদেশে যাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সেই ১৭ তাবলিগ সদস্যদের অবশ্য কারও করোনা ধরা পড়েনি।
গতকাল (রোববার) ভারতের একটি টিভি চ্যানেলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশে বাহারাইচে ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের ১৭ জন তাবলিগ জামাত সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি বাহারাইচ পুলিশ শহরের তাজ ও কুরেশ মসজিদ থেকে ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের ১৭ বিদেশিসহ মোট ২১ তাবলিগ সদস্যকে আটক করেছিল। পরে তাঁদেরকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।
কোয়ারেন্টাইনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরে ১৭ বিদেশিসহ ২১ তাবলিগ সদস্যকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করা হয়। এদের মধ্যে ১৭ বিদেশিকে ভিসা ও পাসপোর্টের নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ৪ ভারতীয়কে জামিন দেওয়া হয়েছে।
করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় এর আগে সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে তাদের পরীক্ষা করা হলে তাঁদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
এদের বিরুদ্ধে ২৬৯, ২৭০, ২৭১, ১৮৮, মহামারী আইন (১৮৯৭) এর ধারা ৩, পাসপোর্ট আইন (১৯৬৭) এর ধারা ১২ (৩) বিদেশি বিষয়ক আইন ১৯৪৬- এর ধারা ১৪ (বি), ১৪ (সি) ছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন (২০০৫) এর ৫৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বিপিন কুমার মিশ্র বলেন, গত ৩১ মার্চ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই ব্যক্তিদের আটক করেছিল।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পক্ষ থেকে আগেই কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয় যে কোনোভাবেই বেআইনিভাবে আসা তাবলিগ জামাত সদস্যদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।