শাকিব বিপ্লব :

নিজ পিতামাতার নিরাপত্তার জন্য এগিয়ে এসে এখন নিজের জীবন নিয়েই শঙ্কায় পড়েছে অন্যের ঘরের ঘরনী জাহেদা। এই যুবতী অঝোর ধারায় কাঁদলেও পুলিশের মন গলছে না, আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছে না তার উপর হামলাকারী পিতা-পুত্র জাহাঙ্গীর সিকদার ও মুরাদের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে সাপ্তাহিক হাট-বাজারের মধ্যে পিটিয়ে আহত করে এখন অনবরত হুমকির মুখে রেখেেেছ। জানিয়ে দিয়েছে, পিতাসহ পরিবার নিয়ে মোহনগঞ্জের সম্পত্তি থেকে সরে যেতে। নচেৎ জমিও যাবে, প্রাণও হারাবে।

জমি নিয়ে এমন বিয়োগান্তের উদাহরন স্মরনে এনে যুবতী জাহেদার কান্নার শব্দ ঘটনাচক্রে বরিশাল মিডিয়ার দরজায় এসে ঠেকেছে। যুবতী জাহেদা কেনো তাদের টার্গেট হলো তা জানতে গিয়ে পাওয়া গেলো, ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া বাবা জাকির হোসেনের মূল্যবান একখন্ড সম্পত্তির মালিকানা আগামীর দাবিদার একমাত্র সন্তান জাহেদা হওয়ায় আত্মীয়-স্বজনরাই এখন তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রহমতপুর ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন মোহনগঞ্জ বাজারে প্রকাশ্যে এই নিয়ে ভার্ঙ্চু-লুটতরাজ হলেও পুলিশ নির্শ্চুপ।
এপ্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ বিন আলম বরিশাল বাণী-কে জানান, বিষয়টি জানার পরই তিনি মাঠ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে সার্বিক বাস্তবতা জানার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা এ.এস.আই ইউসুফের ভাষ্য, বিষয়টি যতোটা গভীর শোনা গেছে বাস্তবে ততোটা নয়। যেকারনে জাহেদার দায়েরকৃত অভিযোগ মামলা আকারে রূপ দেয়া সম্ভবপর হয়নি। অথচ জাহেদাকে বলা হয়েছিলো, ঘটনার দিন ৭ মে রাতেই এঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে, আসামীদের আটকে সন্ধান চলছে। এই ভাষ্য ঐ যুবতীর।
একজন এ. এস আই কখনও মামলার তদন্ত ভার পায়না, তা স্পষ্ট হওয়ার পরই জানা গেলো জাহেদা আইনের আশ্রয় নিতে গিয়েই প্রতারিত হয়েছে। ফলে আসামী ধরবে কে? যে কারনেই জাহাঙ্গীর সিকদার ও তার পুত্র মুরাদ সিকদার বেপরোয়া আচরন শুরু করেছে অসহায় এই পরিবারের উপর।
জানা গেছে,৭ মে ইফতারীরর ঘন্টা খানেক পূর্বে আচমকা জাকির হোসনের পরিবারের উপর এই হামলা এবং বসতঘর তছনছের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে স্থানীয়রাসহ হাটে আসা অগণিত মানুষ। এ সময় জাহেদাকে ঘর থেকে টেনে-হিচঁরে বাজারের ভেতর প্রকাশ্যে পেটানো হয়। ঐদিন ছিলো মোহনগঞ্জে সাপ্তাহিক হাট। ঐ হাটের উপরেই জাহেদাদের বসতি। এই বসতঘরের সম্পত্তিই কাল হয়ে দাড়িয়েছে।
খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, জাহেদাদের প্রাপ্ত তিন শতক সম্পত্তি ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত। প্রতিপক্ষ জাহাঙ্গীর সিকদার হচ্ছে সম্পর্কের দাদা। জাহেদার বাবা মিজানুর রহমানের দাদী মনোয়ারা বেগম ৪৩ শতাংশ সম্পত্তি মৃত্যুপূব বন্টন করে দিয়ে যায়। মনোয়ারা বেগমের তিন বোন ওজুফা বেগম, মঞ্জুয়ারা বেগম ও মরিয়ম বেগম একই পরিমান সম্পত্তি পায়। বাকী অংশ দুই ভাই জাহাঙ্গীর সিকদার ও আলম সিকদারের মাঝে বন্টন করে দেওয়া হয়। এসব সম্পাদন হয় দলিলমূলে।
মনোয়ারা বেগমের তিন বোনের সম্পত্তি দুই ভাই ক্রয় করে নেয়। কিন্তু বাজারের মূল পয়েন্টে থাকা সম্পত্তি মিজানুর রহমানের অনূকুলে থাকায় তা ক্রয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্যার্থ হয়। মিজানরু রহমান প্রায় ৩০ বছর পূর্বে তা মূল বাড়ি মীরগঞ্জ ছেড়ে সেখানে বসতি গেড়ে একটি টেইলারের দোকান খোলেন। সেই থেকে মিজানুরের টেইলার হিসেবে তার পরিচিতি।
মিজানুরের একমাত্র সন্তান জাহেদার বিয়ে হলে তিনি ভান্ডারিয়ার গালুয়া ইউনিয়নের শ্বশুরালয়ে চলে যায়। পরবর্র্তীতে বরিশালের বাসা ভাড়া নিয়ে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সেবিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। নিয়মানুসারে মিজানুরের ঐ সম্পত্তির ভবিষ্যত মালিকই হচ্ছে জাহেদা। কিন্তু মিজানুরের দুর-সম্পর্কের দুই ”াচা জাহাঙ্গীর ও আলম সিকদার বিষয়টি মানতে পারছে না। আবার ক্রয় করতেও তাদের রাজিখুশি করতে ব্যার্থ হচ্ছে। সেই লড়াই থেকেই শুরু হয় মিজানুরকে ঐ সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদে হুমকি ধামকি।
এরই প্রেক্ষাপটে জাহেদা বাবার নিরাপত্তার স্বার্থে তার এক সন্তানসহ স্বামীকে নিয়ে সমপ্রতি মোহনগঞ্জ বাজারে পিত্রালয়ে অবস্থান নেয়। জাহেদা বুদ্ধিমতী হওয়ায় এখন টার্গেটের স্বীকার। জীবনশঙ্কার কারন হয়ে দাঁড়ালে জাহেদার স্বামী সোহাগ হাওলাদারও নিরাপত্তার স্বার্থে বরিশাল ফিরে এসেছে। জাহেদাকে বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে বাবা মায়ের আঁচলতলে। অসহায় পরিস্থিতিতে এই যুবতী এখন কাঁদছে।

 

সূত্র: বরিশাল বাণী ডটকম