জিয়া উদ্দিন সিদ্দিকী, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি::
বরগুনার আমতলী উপজেলাসহ উপকূলীয় এলাকায় রবিশস্যের আবাদে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সূর্যমুখী ফুল চাষ। চলতি বছর এ অঞ্চলে সূর্যমুখী ফুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা অর্জণে আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এ অঞ্চল বাংলাদেশের মধ্যে সূর্যমুখী আবাদে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। মাটির গুণাগুণ, আবহাওয়া ও জলবায়ূ সূর্যমুখী ফুল চাষের উপযোগী।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, সূর্যমুখী ফুল একটি তৈল জাতীয় ফসল। ভোজ্যতেলের মধ্যে সূর্যমুখী ফুলে কোলেস্টরল পরিমান মতো থাকে। তাই সূর্যমুখীর আবাদ কৃষকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে রবিশস্যের প্রণোদনার আওতায় সরকার কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করছে।
চলতি বছরে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২০ হেক্টর। আবাদ হয় প্রায় ২৮৯ হেক্টর জমিতে। উপজেলার প্রায় ১ হাজার থেকে ১২’শ জন কৃষক এ বছর সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন। গুলিশাখালী, কুকুয়া, আঠারগাছিয়া, আমতলী ও হলদিয়া ইউনিয়নে এর আবাদ বেশী। সাধারণত জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়ে থাকে। মার্চ- এপ্রিলের মধ্যে ফসল কাটার উপযোগী হয়। কৃষকদের পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি প্রস্তুত, বীজ রোপণ, সার প্রয়োগ, আন্তঃপরিচর্যা, সেচ ও বালাইনাশক প্রয়োগে হেক্টর- প্রতি খরচ হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা। হেক্টর প্রতি কমপক্ষে ৫০ থেকে ৫৫ মণ ফলন হলেও তা বিক্রি হবে প্রায় ১ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায়।
উপজেলার গুলিশাখালীর কৃষক মোঃ শহিদুল বলেন, আমি এ বছর ২ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। এতে আমার জমি প্রস্তুত, সেচ, আগাছা নিধন, নিরানি, বেড তৈরিতে মোট খরচ হয়েছে ২৫ হাজার চার শত টাকা খরচ হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আমি ফসল কেঁটে ঘরে তুলবো, আশাকরি আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ মন সূর্যমুখী ফলের দানা পাবো। এ বছর প্রতি মণ দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে আমি ৯০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করতে পারবো আশা করছি।
কুকুয়ার আবুবক্কর বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস তাকে বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করা ছাড়াও মাঠপর্যায়ে এসে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ফলন অনেক ভাল হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ রাসেল বলেন, হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন রাওঘা গ্রামসহ পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পঞ্চাশ একর জমিতে বড় সূর্যমুখী ফুলের (জাত প্রর্দশনী) হাইসান- ৩৩ প্রদর্শিত হয়েছে। কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে এগুলো উপজেলা কৃষি অফিস বাস্তবায়ন করছে। এছাড়াও সরকারের রাজস্ব অর্থায়নে উপজেলা ৬০টি স্পটে (একবিঘা) করে ৬০টি সূর্যমুখী ফুলের প্রর্দশনী রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিএম রেজাউল করিম বলেন, এ অঞ্চলের মাটি কিছুটা মৃদু ধরনের লবণাক্ততা সহনশীল হওয়ায় আবহাওয়া ও জলবায়ু সূর্যমুখী ফুল চাষাবাদের জন্য উপযোগী। তাই কৃষককে সূর্যমুখী ফুল চাষে আগ্রহী করার জন্য আমরা বীজ, সারসহ নানা ধরনের সহায়তা দিচ্ছি, যাতে কৃষকরা স্বল্প খরচে অধিক লাভবান হতে পারেন।