আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:: ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে বরগুনার আমতলীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে উপকূলের মানুষের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আতঙ্ক বিরাজ করছে।মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর আমতলী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পায়রা নদীসংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় সাইক্লোন শেল্টারে নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আমতলীর বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেয়া মানুষের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে ইউএনও মনিরা পারভীন খিচুড়ি ও শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন।আমতলী ঘূর্ণিঝড় কর্মসূচি অফিসসূত্রে জানা গেছে, সুপার সাইক্লোন আম্পান পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। উপকূলীয় অঞ্চল আমতলীতে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর ও নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-১০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস প্লাবিত হতে পারে।মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ৮৮টি সাইক্লোন শেল্টারে কিছু কিছু মানুষ এসে আশ্রয় নিয়েছে। ইউএনও মনিরা পারভীন আমতলী সদর ইউনিয়নের চলাভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাইক্লোন শেল্টারে খিচুড়ি ও শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন। এখন পর্যন্ত উপজেলার সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, ইউএনও মনিরা পারভীন চলাভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাইক্লোন শেল্টারে অন্তত তিন শতাধিক মানুষের মধ্যে খিচুড়ি ও শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন।উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. নুরুল ইসলাম বলেন, পায়রা নদীসংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এলাকার অন্তত এক হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উপজেলায় ৮৮টি সাইক্লোন শেল্টারে কিছু কিছু মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নেয়া মানুষের মাঝে খিচুড়ি ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আশ্রয় নেয়া মানুষের মাঝে মাস্ক ও সাবান বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আশ্রিত মানুষের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের কাছে সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়া কোনো মানুষকে কষ্ট পেতে হবে না।