নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার লবনসাড়া গ্রামে জমি দখলের মিশন নিয়ে মাঠে তৎপর বরিশাল মহানগর বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহীন।
করোনা ও লকডাউনের সময়ে প্রশাসনিক তৎপরতা অন্যদিকে থাকায় এই সুযোগটি লুফে নিচ্ছেন যুবদল নেতা শাহীন। এতে বাধা দিলে জমির মালিকদের গালিগালাজ সহ হুমকি প্রদান করেন তিনি। এই মর্মে বানারীপাড়া থানায় অভিযোগ জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী রিয়াজুল ইসলাম। যার নং ৩৯৫ তারিখ ১১-০৬-২০২০।
ডায়েরি সূত্রে জানাযায়, উভয়পক্ষ একই বাড়ীর বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। গত ২৯ মে যুবদল নেতা শাহীন বিরোধীয় জমিতে নিজের ভবন নির্মানের উদ্যোগ নেন । এতে জমির শরিক এজেডএম সালেহ ও রিয়াজুল ইসলাম বাধা দিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং চওড়া হন শাহীন। তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে শাহীন।
ভুক্তভোগী জমির শরিকরা জানান, ‘মৃত সামসুল হুদার পুত্র যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম শাহীন তাদের এজমালী জমিজমা ভাগবন্টন ও সমঝোতা ছাড়াই দখলের পায়তারা চালায়। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ভুক্তভোগী জমির শরিকদের জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের জন্য মালামাল আনে। এরপূর্বে ওই জমিতে থাকা এজেডএম সালেহ ও রিয়াজুল ইসলামের ভোগদখলকৃত জমির সাড়ে তিন লক্ষ টাকার বনজ, ফলজ ও দুটি বড় সাইজের বাঁশঝাড় কেটে বিক্রি করে দেয়। পরে তারা গাছের মূল্য দাবি করলে শাহিন উল্টো তাদের কাছে এক লক্ষ টাকা দাবি করে। এ জমিতে যৌথভাবে মৃত মুন্সি ছাদেন উদ্দিন, মৃত মুন্সি মোবারক ও মৃত মুন্সি আজিজুল হকের নাম জারী আছে। তারা বর্তমান প্রজন্মের পিতৃব্য। এসব জমি ভাগ বন্টনের আগেই সম্প্রতি রফিকুল ইসলাম শাহীন স্থায়ী ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে। এতে অন্যান্য শরিকরা বাধা দিলে শাহীন পেশিশক্তি ব্যবহার করে এবং শরিকদেরে হুমকি প্রদান করে। ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে শারিরিকভাকে লাঞ্চিতও করে শাহীন। ফলে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে ভোক্তভোগী অন্যান্য শরিকরা। তারা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে রফিকুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘আমি আমার বাপ-দাদার জায়গায় দালান উঠাচ্ছি। ভাগ বাটোয়ারায় যদি কেউ জমি পায় সেটা অন্য যায়গা থেকে দেয়া যাবে। তাছাড়া জিডিতে উল্লেখিত বিষয়ে ওই দিন রিয়াজুলের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছে তবে হুমকি প্রদানের মতো কোন ঘটনা ঘটেনি।’
জমির শরিক এজেডএম সালেহ ও রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এজমালী জমি ভাগ বন্টন ছাড়া আইনগতভাবে কেউই খেয়াল খুশিমত স্থায়ী ভবন নির্মান করতে পারেন না।