রোগীর স্বজনদের হাতে বেদম পিটুনির শিকার হয়ে মৃত্যুবরণকারী ডা. রাকিব হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি জানিয়েছে বিএমএ খুলনা শাখা। পাশাপাশি চিকিৎসকদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের দাবি করা হয়েছে। যাতে হাসপাতাল বা চেম্বারে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা যায়। চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থার সংকট বা কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে একজন রোগী ও তার স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হন। রোগী ও স্বজনদের সন্তুষ্টি সৃষ্টির জন্যে চিকিৎসা কাঠামো আরো বেশি শক্তিশালী করতে হবে এবং চিকিৎসা প্রশাসনের সকল স্তরে চিকিৎসকদের পদায়ন করতে হবে।

বিএমএ খুলনা শাখার পক্ষ হতে সোমবার দুপুর দেড়টায় বিএমএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়। এতে বক্তব্য বলেন বিএমএ খুলনা শাখার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মেহেদী নেওয়াজ।

বক্তারা বলেন, অপারেশনজনিত কারণে কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় আইনে দায়মুক্তি দেওয়া আছে। রোগীর স্বজনদের অনুমতিসাপেক্ষে একজন চিকিৎসক রোগীর অপারেশন করেন। অপারেশনের মৃত্যুর ঘটনা হত্যাকাণ্ড নয়; আর চিকিৎসার ভুল একজন রোগী বা স্বজন বলতে পারেন না। এটি বলবার জন্যে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। রোগী বা স্বজনরা চিকিৎসা নিয়ে যেকোনো অভিযোগ মেডিক্যাল কাউন্সিলে করতে পারেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, রাইসা ক্লিনিকে কোনো চিৎিসাজনিত ত্রুটি হয়েছিল কি-না তা দেখার জন্যে বিএমএ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ওই ক্লিনিক বা চিকিৎসকের কোনো পেশাগত অসততার দায় বিএমএ নেবে না। বিএমএ বরাবরের মতো চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দাবি করে আসছে। নিরাপত্তা মানে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পুলিশি পাহারা থাকতে হবে, তা নয়। দেশে দেশে চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, মারধর বা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় যুক্তদের আইনের আওতায় এনে বিচার করার জন্যে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে; আমরাও সেই রকম আইন দাবি করছি।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুন গল্লামারী এলাকার রাইসা ক্লিনিকে শিউলি বেগম নামের এক নারীর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হয়। প্রথম দিকে সন্তান ও মায়ের শরীর ভালো থাকলেও রাতে মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরদিন সকালে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। এতে রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ১৫ জুন রাতে ৯টার দিকে ক্লিনিকে এসে ডা. রকিবকে বেপরোয়াভাবে মারধর করে। এতে তার মাথায় আঘাত লেগে গুরুতর আহত হন। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জুন সন্ধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন।

এ ঘটনায় হত্যার সঙ্গে যুক্তদের গ্রেপ্তার, মামলা নিতে গড়িমসি ও প্রয়াত ডাক্তারের স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহারের কারণে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপক্ষা দাবি করা হয়। প্রথম দুটি দাবি পূরণ হলেও তৃতীয়টি এখনও পূরণ হয়নি। কেন্দ্রীয় বিএমএ এই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ কারণে খুলনা বিএমএ তাদের কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছে।