জিয়া উদ্দিন সিদ্দিকী, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।
বরগুনার আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ারের বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছে পৌর মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ পরিষদের ১২ সদস্যরা।

আজ (সোমবার) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পরিষদের মাসিক সাধারণ সভায় আর্থিকভাবে লাভবান, নিজের আত্মীয়দের নামে প্রকল্প বাস্তবায়ন, উপজেলা পরিষদের গাড়ী ব্যক্তিগত ও তার ব্যবসায়ীক কাজে ব্যবহার, টিআর কাবিখা থেকে ৫% উৎকোচ গ্রহনসহ ১০ দফা অভিযোগ এনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেন।

১৫ সদস্যের উপজেলা পরিষদে পৌর মেয়র উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিয়ার রহমান, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান, সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ পরিষদের ১২ সদস্য সভায় উপস্থিত থেকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন প্রদান করেন।

এছাড়া উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান তামান্না আফরোজ মনি সভায় উপস্থিত ছিলেন না ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন সভায় উপস্থিত থাকলেও তার কোন ভোটিং পাওয়ার নেই।

আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, আর্থিকভাবে লাভবান, নিজের আত্মীয়দের নামে প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যক্তিগত ও তার ব্যবসায়ীক কাজে উপজেলা পরিষদের গাড়ী ব্যবহার, টিআর- কাবিখা থেকে ৫% উৎকোচ গ্রহনসহ ১০ দফা অভিযোগ এনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আমরা পরিষদের ১২জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান বলেন, যারা আমার নির্বাচন থেকে শুরু করে বিরোধিতা করে আসছে তারাই এখন এসব করছে। পৌর মেয়র, ভাইস চেয়ারম্যানসহ আঠারোগাছিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা ২০০১ সালে বিএনপি করেছে। তারা এখন আওয়ামীলীগে এসে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। আমি ত্যাগী নেতা- কর্মীদের পক্ষালাম্বন করায় তারা আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি দূর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধচারন করায় তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অনাস্থা দাখিল করছেন। এরাই সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ সালাহ উদ্দিন আহমেদ তালুকদারকে অনাস্থা দিয়েছিল।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ারের বিরুদ্ধে ১০টি অভিযোগ এনে বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে পরিষদের ১২ সদস্য অনাস্থা দাখিল করেছেন। অনাস্থা প্রস্তাবের কপিটি আমি বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পৌছানোর ব্যবস্থা করবো।