বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:: বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের খয়রাবাদ বাজারসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবন দীর্ঘদিন যাবত ব্যবহারের অনুপোযোগী হওয়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অস্থায়ী ভবনে ইউপি কার্যক্রম চালাতে গিয়ে সেবা গ্রহীতারা চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
জানা যায়, ১৯৬০ সালে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের খয়রাবাদ বাজারসংলগ্ন এলকায় গারুড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি ভবন নির্মিত হয়। নির্মাণের পর থেকে ৪৯ বছর যাবৎ ইউনিয়নের সব কার্যক্রম পরিচালনা হয়েছে এখান থেকে। ইউনিয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইউপি ভবন হওয়ায় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা নিতে তেমন কোনো ঝামেলা পোহাতে হতো না। এখান থেকেই চাল গম আটা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ থেকে শুরু করে জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, চরিত্র সনদপত্র ইত্যাদি গ্রহণ করতেন ইউনিয়নবাসী।
ইউপি ভবনটি দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না হওয়ায় বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। কয়েক বছর যাবত একই অবস্থায় থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কেউ এগিয়ে আসছেন না; ফলে চরম দুর্ভোগে ইউনিয়নের সেবাগ্রহীতারা।
সরেজমিন দেখা গেছে,পাকিস্তান আমলে নির্মিত ভবনের বেশির ভাগ দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ছাদের অনেক অংশে বড়-বড় ফাটল ধরেছে।এছাড়াও পোস্ট অফিস, গুদামঘর, গ্রাম-সালিশ কক্ষ দুটিরও বেহাল অবস্থা। ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। বেশকিছু জায়গায় বেরিয়ে পড়েছে রড। ভবনের আশপাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপ জমে উঠেছে। শৌচাগার ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে।
জানতে চাইলে আল-আমিন নামের এক এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চরম বেহাল দশা। সারা দেশে দৃষ্টিনন্দন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন তৈরি হলেও এখানে তার ব্যতিক্রম। এ যেন দেখার কেউ নেই? তিনি আরও জানান, প্রতিটি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যদিও বলে থাকেন ইউনিয়ন পরিষদের সংস্কারের কথা এবং নিয়মিত এখানে বসে পরিষদ পরিচালনার কথা, কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর তা আর কেউ মনে রাখছেন না।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে গারুড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এসএম জুলফিকার হায়দার বলেন, বর্তমানে ইউপি ভবনটি পোস্ট অফিসের জায়গায় আছে। একটি আধুনিক ইউনিয়ন ভবনের জন্য জমির প্রয়োজন। জমি না থাকায় নতুন ভবনের জন্য দুই-তিনবার টাকা আসলেও তা ফেরত গেছে।