ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক:: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে কাদের মির্জা ও বাদল গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় জেরে তিন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল জামিন পেয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ২নম্বর বিচারিক আদালতের বিচারক নবনীতা গুহ তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। তার পক্ষে জামিন চান তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুন-উর-রশিদ হালদার। আদালত শুনানি শেষে তাকে তিনটি মামলায় জামিন প্রদান করেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুন উর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আদালত সকালে দুটি ও বিকালে একটি মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করে। এখন তার মুক্তি পেতে বাঁধা নেই।
বিকেল ৪টায় নোয়াখালী শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টুসহ তার সমর্থিত নেতা কর্মীরা তাকে নোয়াখালী জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়।
জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চাপরাশির হাট বাজারে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাকে ১০ মার্চ বিকেলে নোয়াখালী জেলা শহরের প্রেস ক্লাব সংলগগ্ন একটি চায়ের স্টল থেকে ডিবি পুলিশ আটক করে। পরদিন তাকে পুলিশ এসল্ট মামলায় আটক দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এরপরই আব্দুল কাদের মির্জা সমর্থকরা আরো দুটি মামলা করে তাকে প্রধান আসামি করে। গ্রেপ্তার হওয়ার ১৩ দিন পর জামিন পেলেন বাদন।
এদিকে বাদলের মুক্তির ঘটনায় নোয়াখালী বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি বলেন, সাংবাদিক মুজাক্কিরকে নিজ হাতে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসী মিজানুর রহমান বাদল, তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় কোম্পানীগঞ্জে আগুন জ্বলবে।

এর এক ঘণ্টা আগে আরেকটি স্ট্যাটাসে বলেন, আমার তিন কর্মীকে মিথ্যা মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে মোজাক্কের হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাবিত করার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে আমি বলেছিলাম মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডে জজ মিয়া দের ফাঁসানো হবে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে আমার কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করব।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশের বিরোধের জেরে গত দেড়-দুই মাস ধরে পুরো উপজেলায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনের সময় থেকে বিভিন্ন বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা কাদের মির্জার সমর্থকদের সঙ্গে এরই মধ্যে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের দুবার সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এতে একজন সাংবাদিক ও একজন সিবএনজি চালকসহ দুজন নিহত হন।