নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভোলার চরফ্যাসনে উপজেলা জলবায়ু ফোরাম ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে স্লুইজ সমূহের যথাযথ কার্যকারিতা নিয়ে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় স্বাস্থ্য বিধি ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের পর্যবেক্ষনে স্লুইজ গেইট সমূহের যথাযথ সমস্যা চিহ্নিত করে সমস্যা থেকে উত্তরণে আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (ডিভিশন-২) এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাছান মাহমুদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হাছনাইন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আনিছুর রহমান। আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চরফ্যাসন উপজেলা জলবায়ু ফোরাম সভাপতি এম আবু সিদ্দিক।
ঘন্টাব্যাপী সংলাপ সঞ্চালনা করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের ভোলা জেলার সহকারি পরিচালক রাশিদা বেগম।এছাড়াও সংলাপে অংশ নেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহ আলম ভূইয়া ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত হাজারিগঞ্জের কৃষক মোঃ জসিম। আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করে।
নাগরিক পর্যবেক্ষনে উপজেলার ১২ স্লুইজের মধ্যে ৭টি স্লুইজের প্রাপ্ত সমস্যা নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট কার্যকরী বিহীত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশসমূহ উপস্থাপন করেন সিএফটিএম প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার রাজিব ঘোষ। তার সাথে সার্বিক সহযোগিতা করেন সিএফটিএম প্রকল্পের একাউন্টস এন্ড এডমিন অফিসার মোঃ ইব্রাহীম।

সংলাপে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সরকার স্লুইজ গেট সমূহ নির্মাণ করেছে মানুষের উপকারের জন্য।মানুষের উপকার না হলে স্লুইজ নির্মান করে কোন লাভ নেই। সরকার স্লুইজ নির্মাণ করে মূলত কৃষির সুবিধা অসুবিধা চিন্তা করে। নির্মিত স্লুইজ গেইটগুলো কার্যকরী থাকা কৃষির জন্য জরুরি। তাই কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্লুইজ গেইটগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে আমি উর্ধ্বতনের কাছে এই বিষয়ে লিখবো। এছাড়া স্লুইজ গেইটগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পূনঃখালাসি নিয়োগে আইন সংশোধনের জন্য সুপারিশ করতে হবে

বিশেষ অতিথি নির্বাহি প্রকৌশলী- পানি উন্নয়ন বোর্ড (ডিভিশন-২) হাছান মাহমুদ বলেন, স্লুইজ গেটগুলো আমি পরিদর্শন করবো এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য আগামী অর্থবছরেরই জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। আর আমাদের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারগন বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্লুইজের কপাট সংস্কার বা পূনঃস্থাপনের কাজ করছে। আমরা সমন্বিতভাবে স্লুইজ গেইটগুলো মনিটরিং ব্যবস্থা বৃদ্ধি করবো, যাতে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হাছনাইন বলেন, চরফ্যাসনের উৎপাদিত ফসল দেশের গন্ডি পেরিয়ে সবজি এখন বিদেশেও রপ্তানি হয়। কিন্তু বিগত কয়েক বছর যাবৎ স্লইজ গেইটগুলো অকার্যকর থাকায় বর্ষামৌসুমে লবনাক্ত পানি ঢুকে কৃষি ও বীজতলা প্লাবিত করে। ফলে কৃষক ও মৎস্য চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।যার ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব চরফ্যাসন তথা দেশের কৃষি নির্ভর অর্থনীতির উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোঃ জসিম বলেন, আমরা চরফ্যাসন হতে সবজি দেশ বিদেশে রপ্তানি করে থাকি।স্লুইজ অব্যবস্থাপনার কারনে স্থানীয় কৃষকগন বছরে কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনছে। বিগত ৪/৫ বছর যাবত স্লুইজ গেট যথাসময় খোলা ও বন্ধ না করার কারনে বর্ষা মৌসুমে কষকের কৃষি ও মৎস্য ঘেরে লবনাক্ত পানি ঢুকে তলিয়ে যায়। ফলে বর্ষা মৌসুমে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই আমরা ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুতসময়ের মধ্যে স্লইজ গেট গুলো সঠিকভাবে যথাসময়ে খোলা ও বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণে কতৃপক্ষের কাছে দাবী জানান।

সভার সভাপতি উপজেলা জলবায়ু ফোরাম সভাপতি, এম আবু সিদ্দিক বলেন, আমাদের দাবীর সাথে একমত পোষন করায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কৃষকের ক্ষয়ক্ষতির কথা চিন্তা করে সমন্বিত ভাবে আমাদের কাজ করতে হবে।যেহেতু আমাদের দেশের অর্থনীতি এখনও কৃষি নির্ভর। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে হলে কৃষক বাচাতে হবে।আমরা উপজেলা জলবায়ু ফোরাম যেকোনো সময় আপনাদের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছি।আজকে সংলাপে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন ও কার্যকর করতে সার্বিক প্রত্যাশা কামনা করছি। এছাড়াও আমরা জলবায়ু ফোরাম চরফ্যাসনের স্লইজ গেটসমূহ নিয়মিত পরিদর্শন অব্যাহত রাখবো।