বরিশাল প্রতিনিধি: হাসপাতালের জরুরি বিভাগের স্টাফকে খবর দেয়ার পরেও কেউ এগিয়ে আসেনি। অবশেষে হাসপাতালের গেটে অটোরিকশায় অপেক্ষার পর সেখানেই একটি পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছেন মুক্তা বেগম নামে এক প্রসূতি।
শনিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে জেলার বানারীপাড়া উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলার সৈয়দকাঠি এলাকার বাসিন্দা মো. শান্ত ইসলাম জানান, তার স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরুর পর নিজবাড়ি থেকে অটোরিকশায় করে মুক্তা বেগমকে হাসপাতালে আনা হয়। এ সময় জরুরি বিভাগের স্টাফদের গিয়ে তার স্ত্রীর সমস্যার কথা বলে সহযোগিতা চাওয়া হয়।

তিনি আরো জানান, আধা ঘণ্টা হাসপাতালের গেটে অটোরিকশায় তার স্ত্রীকে নিয়ে অপেক্ষা করলেও হাসপাতালের কেউ এগিয়ে আসেননি। ততক্ষণে প্রসূতি মুক্তার প্রসব বেদনা বেড়ে যায়। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর কয়েকজন নারী স্বজনদের সহযোগিতায় ইজিবাইকে থাকা পলিথিন দিয়ে কোনোমতে ঢেকে রাখার পর হাসপাতালের গেটেই মুক্তা বেগম একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বানারীপাড়া হাসপাতালে প্রসূতি রোগী আসলেই দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফ কিংবা নার্সরা কোনো কিছু না দেখেই একবাক্যে বলে দেন-রোগীর পানি নেই কিংবা বাচ্চা উল্টে গেছে। বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে প্রসূতিকে সিজার করাতে হবে। এরই মধ্যে রোগীর স্বজনদের এধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী ক্লিনিকে নেয়ার সময় সড়কে প্রসূতিদের সন্তান প্রসব করার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

সার্বিক বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে হাসপাতালের কারো দায়িত্ব অবহেলার কারণে গেটে সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটে থাকলে সে ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।