বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে সালিশ বৈঠকে এক কিশোরীকে বিয়ে করে সমালোচিত সেই ইউপি চেয়ারম্যানের দেহরক্ষী-কাম গাড়িচালক রুবেলের পিস্তল হাতে ছবি ভাইরাল হয়েছে। আর এই পিস্তলের উৎস নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পিস্তলটি বৈধ নাকি অবৈধ?জানা গেছে, রুবেল হোসেন (২৬) চার বছর ধরে উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের দেহরক্ষী-কাম গাড়িচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। চেয়ারম্যান যেখানেই যান সেখানেই রুবেলকে সঙ্গে নিয়ে যান। সম্প্রতি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার সালিশে এক কিশোরীকে বিয়ে করে ব্যাপক সমালোচিত হন। এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারিত হয়। বিয়ের এক দিন পর চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে তালাক দেন ওই কিশোরী।
এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের দেহরক্ষী-কাম গাড়িচালক রুবেলের পিস্তল হাতে ছবি ভাইরাল হয়েছে। রুবেলের বাবার নাম রাজ্জাক সিকদার। তার বাড়ি কনকদিয়া ইউনিয়নের কুম্ভুখালি গ্রামে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কনকদিয়া ইউনিয়নের এক সাবেক ইউপি সদস্য বলেন, পিস্তলটি আসল না নকল তা জানি না। তবে তাদের কাছে পিস্তল আছে এটা জানি। আর এই পিস্তলের ভয়ের কারণে এলাকার মানুষ শাহিন চেয়ারম্যানের অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, এই পিস্তলের ভয় দেখিয়ে কিশোরী নাছমিন আক্তার ওরফে নছিমনকে চেয়ারম্যান শাহিনের সাথে বিয়েতে বাধ্য করা হয়েছে। নছিমনের প্রেমিক রমজান বলেন, বুধবার সকালে কনকদিয়া গ্রামের চুনারপুল এলাকা থেকে চেয়ারম্যানের অনুসারী সিজান নামের এক যুবক তাকে পিস্তল ঠেকিয়ে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে পটুয়াখালী নিয়ে যায়। চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের এক ভাগ্নের বাসায় আটকে রাখে। সেখান থেকে চার দিন পর কৌশলে সে পালিয়ে আসে।
চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের দেহরক্ষী-কাম গাড়িচালক রুবেল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের মোবাইল নম্বরে ফোন দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসার পরে পিস্তলের ছবিটি সংগ্রহ করেছি। ছবিটি দেখে প্রথম পর্যায়ে আমার কাছে খেলনা পিস্তল মনে হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।