অনলাইন ডেস্ক:: প্রতিদিন বাড়ছে পদ্মা, যমুনা, ধরলাসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি। এতে দেশের অধিকাংশ এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফরিদপুরে পদ্মার পানি গত সাত দিন ধরে বাড়ছে। ফলে দেশের মধ্যাঞ্চলের এই জেলাসহ পদ্মার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এই নদ-নদীগুলোর অববাহিকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ।
শরীয়তপুরের নড়িয়ার সুরেশ্বর পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গোয়ালন্দ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ সেন্টিমিটার পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে তা এখন বিপৎসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, ডিক্রিরচর, চরমাধবদিয়া ও ঈমান গোপালপুর ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডিক্রিরচর ইউনিয়নের দুটি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম রেজা জানান, পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও গবাদিপশুর খাদ্য মজুত আছে। আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যাদুর্গতদের নিরাপদ স্থানে রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুর সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু বলেন, আমার ১২টি গ্রাম বন্যাকবলিত। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা আছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পানিবন্দি মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে।
নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান জানান, তার ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের ১৩ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি। তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে।
কুড়িগ্রাম: উজানের ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় ধরলা অববাহিকায় প্রায় সহস্রাধিক বাড়িঘরে পানি উঠেছে এবং তলিয়ে গেছে ৩ হাজার ২০০ হেক্টর রোপা আমনখেত। চরাঞ্চলগুলোর নিচু এলাকার বিভিন্ন ফসল ও গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। চরাঞ্চলসহ নদী অববাহিকার মানুষজন যাতায়াতে পড়েছে চরম বিপাকে। কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উমর ফারুক জানান, গত দুই দিনে ধরলার পানি বাড়ায় ইউনিয়নের ৬ শতাধিক বাড়িঘরে পানি উঠেছে। এছাড়াও নিচু জমির রোপা আমনখেত তলিয়ে গেছে।
শরীয়তপুর: শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট থেকে পদ্মা নদীর পানি নড়িয়ার সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙন রোধে জাজিরার ৩৭টি, নড়িয়ার ১২টি, ভেদরগঞ্জের ২২টি, গোসাইরহাটের ১৪টি ও সদর উপজেলার ১৫টি স্থানে প্রায় ৩১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি বৃদ্ধির ফলে নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠি, শেহের আলী মাদবরকান্দি ও চেরাগ আলী ব্যাপারিকান্দি এলাকায় সিসি ব্লক নির্মাণের তিনটি ইয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে।
মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। ভাঙনের কবলে পড়েছে রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। এছাড়া পদ্মাসহ ইছামতী, ধলেশ্বরী ও কালীগঙ্গা নদীর পানিও বাড়ছে।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারি, বাঘুটিয়া, শিবালয় উপজেলার অন্বয়পুর, আরিচা, নেহালপুর, জাফরগঞ্জ, ঘিওর উপজেলার সিংজুরি, বড়টিয়া, সদর উপজেলার কুশেরচর, হরিরামপুর উপজেলার ধুলশুরা, কাঞ্চনপুর, সুতালড়ী, লেছড়াগঞ্জ, আজিমনগর ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন বলেন, হরিরামপুরের ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬ হাজার জিও ব্যাগ দিয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়ে তিন হাজার ব্যাগ ফেলা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নদী পাড়ের হাজার হাজার মানুষ। সেই সঙ্গে বিপাকে রয়েছে গো-খামারিরা। যমুনা নদীর পানি মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে শাহজাদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ গো-চারণভূমি ও সবুজ ঘাস।
ফলে দুই লক্ষাধিক গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গো-খামারিরা। কাজীপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, তেকানি, মুনসুরনগর ও খাসরাজবাড়ি ইউনিয়ন এবং চৌহালী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতভিটা। বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, যমুনা নদীর পানি আরো দুই-এক দিন বাড়তে পারে। এ সময়ের মধ্যে বিপত্সীমা অতিক্রম করতে পারে।