বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়ায় ইলুহার ইউনিয়নের বিহারী লাল একাডেমি ও পূর্ব ইলুহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে  সন্ধ্যা নদীর সর্বনাশা ভাঙন থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। দাবির সপক্ষে গতকাল মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটি উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের পূর্ব ইলুহার গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের  বাতিঘর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এলাকার সন্তানরা যখন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল, তখন পূর্ব ইলুহারের বাসিন্দা শম্ভু নাথ সরকারের ছেলে ভারতের শিক্ষা  বিভাগে চাকরিরত বিহারী লাল সরকার ১৯১৯ সালের প্রথম দিকে পৈত্রিক সম্পত্তিতে নিজের নামে নামকরণ করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করেন। ওই সময়ে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাদান বিহারী লাল একাডেমি থেকেই দেওয়া হতো বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এরপর ১৯৪১ সালে একই ক্যাম্পাসে  পূর্ব ইলুহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায়ও স্থানীয় সরকার বাড়ির পূর্ণ সহযোগিতা ছিল।

সেই থেকে বিদ্যালয় দুটি এলাকার আলোর বাতিঘর হয়ে কয়েকটি গ্রামকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে চলছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ বুদ্ধিজীবী সুখরঞ্জন সমদ্দার এই এলাকারই সন্তান। বর্তমানে বিদ্যালয় দুটি সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের কিনারে এসে পড়েছে। যে কোনো সময় নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে বিদ্যালয় দুটি।

বিদ্যালয় দুটি ভাঙনের কবল থেকে রক্ষার দাবিতে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। বিদ্যালয়সংলগ্ন নদীর তীব্র ভাঙন স্থানে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইলুহার ইউপির চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আলমগীর কবির, বিহারী লাল একাডেমির প্রধান শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান, সাবেক প্রধান শিক্ষক অনিল চন্দ্র বাড়ৈ, সহকারী শিক্ষক নরেন্দ্র নাথ বাড়ৈ, মো. করিম হোসেন, পূর্ব ইলুহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার মিস্ত্রী, স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন, স্বরূপকাঠি উপজেলার সুঠিয়াকাঠি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রাজু, বানারীপাড়া উপজেলা যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান, স্থানীয় সমাজসেবী সংগঠন চন্দ্রা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা, বিদ্যালয় দুটিতে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি পেশার হাজারো মানুষ।

বিহারী লাল একাডেমির চারতলা ভিত বিশিষ্ট নতুন ভবনটি দুই কোটি টাকার বেশি অর্থে নির্মিত হয়েছে। ঠিকাদারি  প্রতিষ্ঠান ২০২১ সালের প্রথম দিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে কাজ শেষে ভবনটি হস্তান্তর করে। এ প্রসঙ্গে ইলুহার ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, এর আগেও বিদ্যালয় দুটি নদী ভাঙন থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটি ভাঙন থেকে রক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

একই কথা বলেন, বিহারী লাল একাডেমির প্রধান শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান ও পূর্ব ইলুহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হেসেন। তাঁরা জানান, সন্ধ্যা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন ক্রমেই আগ্রাসী হয়ে উঠছে। বিদ্যালয় দুটি রক্ষায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহে আলমের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।