স্টাফ রিপোর্টার:
২০১৪ নিয়ম বহির্ভূত নিয়োগ পরিক্ষার মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান খাদ্য গুদামে কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কয়েক জন ব্যাক্তিকে নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ দেয়া হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করে। একপর্যায়ে দুদক তদন্ত করে সত্যের অস্তিত্ব খুঁজে পায় এবং তৎকালীন এ জালিয়াতির সাথে জড়িত ৪৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু হয়। এখন পর্যন্ত যদিও মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।

এই জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তিরা হলেন, আমতলীর সাবেক ওসিএলএসডি রবিন্দ্রনাথ বিশ্বাস, খাদ্য পরিদর্শক ইসরাত জাহান মনা, খাদ্য পরিদর্শক আরিফা সুলতানা, সহ আরো কয়েকজনের নামে দুদকে নিয়গ নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে।

অপরদিকে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আমতলী খাদ্যগুদামের রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গোডাউনের বস্তা থেকে পাইপের মাধ্যমে চাল চুরি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
চাল চুরির ঘটনাটি তখন দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও জাতীয় প্রিন্ট পত্রিকায় গুরুত্বের সাথে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমতলী খাদ্য গুদাম থেকে বস্তা থেকে পাইপ দিয়ে চাল চুরি করেছিলেন গুদাম কর্মকর্তা রবিন্দ্রনাথ বিশ্বাস।
বরগুনার আমতলী খাদ্য গুদামের অনিয়ম পরিদর্শণ করছেন তখন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সরোয়ার মাহমুদ।

জানা গেছে, আমতলী খাদ্যগুদামে ২ হাজার ৩০১ টন ৬৮৪ কেজি চাল মজুত রয়েছে। ঐ চালের বস্তা থেকে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সহায়তায় পাইপ দিয়ে চাল চুরি করে আসছিলেন। এভাবে প্রতি বস্তা থেকে তিন-চার কেজি চাল সরিয়ে ফেলা হতো এমন অভিযোগ গুদাম শ্রমিকদের। পাইপ দিয়ে চাল চুরির একটি ভিডিও ফুটেজ বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনা খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সারোয়ার মাহমুদের নজরে আসে। শুক্রবার রাতে তিনি খাদ্যগুদাম পরিদর্শনে আমতলী আসেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নুর হোসেন সজল, আঞ্চলিক খাদ্যনিয়ন্ত্রক মো. ফারুক হোসেন, ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান।

গুদাম পরিদর্শন শেষে মহাপরিচালক পটুয়াখালী জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মো. লিয়াকত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পটুয়াখালী সদর খাদ্যনিয়ন্ত্রক বি এম সফিকুল ইসলাম ও বরগুনা সদর খাদ্যনিয়ন্ত্রক ধ্রুব মণ্ডল। তদন্ত কমিটি আমতলীর চারটি খাদ্যগুদাম সিলগালা করা হয়েছিলো। অথচ অজানা কারনেই এখন পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস রয়ে গেলো অধরা। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাইপ দিয়ে চাল চুরির ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস কে ওসি এল এসডি থেকে সরিয়ে ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা একের পর এক অনিয়ম আর দুর্নীতির করে আসলেও তদন্তের নামে অর্থ-বাণিজ্য করে পুনরায় ওই সকল কর্মকর্তাদের বহাল তবিয়তে রাখা হয়।

আমতলীর সাবেক ওসিএলএসডি রবিন্দ্রনাথ বিশ্বাস,, খাদ্য পরিদর্শক ইসরাত জাহান মনা, খাদ্য পরিদর্শক, আরিফা সুলতানা, সহ আরো কয়েকজনের নামে দুদকে নিয়গ নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে।

বিশেষ সূত্রে জানা যায় এদেরকে নিয়ম নীতিমালা বহির্ভূত ভাবে সরকারি খাদ্যগুদামে মজুদ ব্যাবস্থাপনায় পদায়ন করা হবে। অথচ একাধিক অভিযোগের কারণে তৎকালীন সময়ে ডিজি সরোয়ার মাহমুদ নির্দেশনা দিয়েছিলেন এদেরকে যেনো গুদামে পদায়ন করা না হয়।

পদায়নের বিষয়ে আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে এখন কিছু বলা যাবে না তবে পদায়নের পরে আপনাদের জানানো হবে।

সূত্রমতে, সরকারি খাদ্যগুদামে মজুদ ব্যাবস্থাপনায় এমন ব্যাক্তিদের পদায়ন করা এখন খুবই ঝুকিপূর্ণ এবং এটা একটা আত্নঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন তারা।