অনলাইন ডেস্ক:: নিখোঁজের পাঁচ দিন পর জামালপুরের ইসলামপুরের আবাসিক মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ তিন ছাত্রীকে ঢাকায় উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, তাদের পড়াশোনা করতে ভালো লাগে না। তাই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে ঢাকায় চলে যায়।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জামালপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জামালপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ইসলামপুর সার্কেল) মো. সুমন মিয়া এ তথ্য জানান। উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর মুগদা থানার মান্ডা এলাকার একটি বস্তি থেকে ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর দারুত তাক্কওয়া আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার ওই তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। তারা মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।সুমন মিয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই তিন ছাত্রী বলেছে, তাদের মাদরাসায় পড়াশোনা করতে ভালো লাগে না। তাই নিজেদের ইচ্ছায় পালিয়ে ঢাকায় চলে আসে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ জানান, তিন ছাত্রীর সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদেরকে শনাক্ত করা হয়। পরে স্থানীয় রিকশাওয়ালাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মুগদা থানার মান্ডা এলাকায় রাজা মিয়া (১৪) নামে এক রিকশাওয়ালার মাধ্যমে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়। রাজা ওই তিন ছাত্রীকে নিজের বোন পরিচয় দিয়ে বস্তির একটি ঘরে দেড় হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে দেয়।
গত শনিবার রাতে মাদ্রাসার আবাসিক কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে ওই তিন ছাত্রী। রবিবার ভোরে ফজরের নামাজের জন্য ছাত্রীদের ঘুম থেকে ডেকে তোলেন শিক্ষকরা। অন্য ছাত্রীদের মতোই ওই তিনজনও নামাজের প্রস্তুতি নেয়। নামাজের পর থেকে তারা নিখোঁজ হয়।
নিখোঁজের পর এক ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় একটি মানবপাচার মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ মাদরাসাটির পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানসহ আরও তিন শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।