অনলাইন ডেস্ক:: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের চুল কাটায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (১ অক্টোম্বর) সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এই দাবি জানিয়ে আসছে তারা। তবে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন থেকে সরে এসেছেন।
এদিকে, প্রশাসনিক ভবনে প্রধান ফটকে ছাত্রদের তালা দেওয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো অবরুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম বিশেষ সিন্ডিকেটের এক ভার্চুয়াল সভায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সিন্ডিকেট শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এক প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য জানানো হয়।
একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থগিত করা হয়েছে সব পরীক্ষাও। তদন্ত কমিটির সুপারিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হয়।
চুল কাটার ঘটনা ঘটে গত রবিবার দুপুরে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় চুল কাটেন শিক্ষক। এ ঘটনায় ছাত্র নাজমুল হাসান তুহিন অপমানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এনায়েতপুর খাজা ইউনুছ আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এ বিষয়ে রবির রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এরপর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চাপে মঙ্গলবার রাতে রবি পরিচালনা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান পদ, সহকারী প্রক্টর পদ ও প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্য পদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন জানান, তাকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে তদন্ত টিম গঠন করেছেন তার প্রতি পূর্ণ সম্মান আছে। তবে কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস তাঁর প্রতি নিরপেক্ষ থাকবেন কিনা সে ব্যাপারে তার প্রশ্ন আছে।