অনলাইন ডেস্ক:: জন্ম নেওয়ার পরই শ্বাস কষ্ট ছাড়াও জ্বর সর্দিতে আক্রান্ত হয় নবজাতক। পরিবারের লোকজন স্থানীয় এক ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রেতার দ্বারস্থ হয়ে চিকিৎসা শুরু করান। প্রাথমিকভাবে নেব্যুলাইজারের পর হোমিওপ্যাথিকের চার জাতের ওষুধ একত্রে মিশ্রিত করে সেবন করায় নবজাতকে। রাত পার না হতে সকালেই শিশুটি নাড়াচাড়া বন্ধ করে দিয়ে নিস্তেজ হয়ে যায়। এ ঘটনায় পরিবারকে চিকিৎসকের পরামর্শ, কাজ হচ্ছে ওষুধের যেকোনো সময় প্রাণ ফিরবে। কিন্তু এই প্রাণ আর না ফেরায় সদ্য মা হওয়া তাসলিমা বুকে আকড়ে ধরে চিৎকার শুরু করে। পরে জানা যায় সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটি অপচিকিৎসার শিকার হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে।
আজ সোমবার দুপুরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল সদর ইউনিয়নের চাড়িয়া গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত শিশুটি গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের (২৮) সন্তান। বিয়ের এক বছর পর গতকাল রবিবার দুপুরে তার স্ত্রী তাসলিমা খাতুন এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। শফিকুল জানান, সদ্যোজাত শিশুটি প্রথমদিকে ভালো অবস্থায় ছিল। কয়েক ঘণ্টা পর তার সন্তানের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তখন তিনি নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাবার প্রস্তুতি নেন। রবিবার রাতে বাড়ি থেকে হাসপাতালে যাওয়ার সময় স্থানীয় গোরস্থান বাজারের হোমিও চিকিৎসক মো. নুরুল হক তার শিশু সন্তানকে দেখতে চান।
শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, রাতে শিশুটিকে উল্টেপাল্টে দেখার পর নুরুল হক চার প্রকারের হোমিও ওষুধ ও নেব্যুলাইজ করে তাকে বাড়ি নিয়ে যেতে বলেন। বাড়ি নেওয়ার পর শিশুটি বেশ কয়েকবার ঢেকুর তুলে অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। এ অবস্থায় নুরুল হককে ফোন করলে তিনি বলেন, সকালে ঠিক হয়ে যাবে। সকালে কোনো উন্নতি না হলে বরঞ্চ এক পর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে গেলে চিকিৎসক নুরুল হক ফের বলেন, কোনো অসুবিধা নেই, ঢেকুর কমে গেছে এটা ভালো লক্ষণ। খুব দ্রুত নড়াচড়া করবে।
এরপর সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তার সন্তান মারা যায়। এই বলে শফিকুল অঝোরে কাঁদতে থাকেন। এ সময় গোটা পরিবারে কান্নার রোল পড়ে যায়। শফিকুলের স্ত্রী তাসলিমা মৃত শিশুটিকে কোলে নিয়ে বলেন, এই তো আমার সোনার ধন। আমার কোল থাইক্যা তারে ছাড়তাম না।
শিশুটির বাবা শফিকুল আরো বলেন, নুরুল হক নিজেকে চিকিৎসক বলেন দাবি করলেও তার দোকানে কোনো সাইনবোর্ড নেই। কিসের চিকিৎসক সেটাও বোঝা যায় না। কারণ তার দোকানে অ্যালোপেথিক ওষুধও বিক্রি করা হয়ে থাকে।
গোরস্থান বাজারের ব্যবসায়ী আরিফুল হাসান বলেন, কথিত চিকিৎসক নুরুল হকের চিকিৎসায় এলাকার কয়েকটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এমনকি গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়া মতো ঘটনাও ঘটেছে।
গোরস্থান বাজারে গিয়ে নুরল হকের দোকানটি বন্ধ পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একটি রোগির বাড়িতেতে আছি। আপনার ভুল চিকিৎসায় তো একজন শিশু মারা গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যেক দিনই তো শিশুর চিকিৎসা করি। কেউ তো মারা যায় না। এই শিশুর কঠির অসুখ ছিল। তাই মারা গেছে। কিভাবে বুঝলেন কঠিন অসুখ, হাসপাতালে পাঠালেন না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন ,এটা পরিবারকে জিগাইন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নুরুল হক ছোট একটি ফার্মেসিকে পশুর ওষুধ ছাড়াও মানুষের সব ধরনের ওষুধ বিক্রি করেন। একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করে ফার্মেসির ব্যবসা শুরু করেন গত প্রায় এক যুগ ধরে।
জানতে চাইলে নান্দাইল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, ঘটনা শুনেই ঘটনাস্থলে একজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।