বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালে ফার্নিচারের দোকান দিয়ে এমএলএম ব্যবসা শুরু করেছিল এক দম্পতি। পাঁচ হাজার টাকা জমা হলে লাখ টাকা ঋণ এবং সহজ কিস্তিতে ফার্নিচার দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে গ্রাহকের ২০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় গ্রাহকের করা মামলায় ওই দম্পতি ও তাদের ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (০৬ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বিল্ববাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলো কাশিপুর ইউনিয়নের পূর্ব বিল্ববাড়ির বাসিন্দা মৃত বারেক শেখের মেয়ে শাহিনুর বেগম ও তার স্বামী আমিনুল ইসলাম সুমন মোল্লা এবং তাদের ছেলে শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল।
এ নিয়ে বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ। এতে উপ-পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, নগরীর কাগাশুরায় বারেক শেখ সুপার মার্কেটে ‘বন্ধুজন ফার্নিচার মেলা অ্যান্ড ভ্যারাইটিজ স্টোর’ নামে একটি দোকান দেয় ওই দম্পতি। এক বছর ধরে ফার্নিচার, মুদি মালামাল ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী কমমূল্যে কিস্তিতে দেওয়ার কথা বলে প্রায় সহস্রাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে সপ্তাহে ২০০ টাকা, কারও কারও কাছ থেকে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে নিতো তারা। বিশ্বাস অর্জনে দুই-একজনকে পণ্য দিতো। বাকিদের পণ্য না দেওয়ায় টাকা ফেরত চান। টাকা ফেরত না দিয়ে তিন মাস ধরে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এখন কারও কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছে না, আগের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। এক বছরে পণ্য দেওয়ার কথা বলে ২০-২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। বিশ্বাস অর্জনের জন্য টাকার রশিদ দিতো গ্রাহকদের। কিন্তু তাদের সংস্থার অনুমোদন ছিল না। কৌশলে প্রতারণা করে মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল তারা।
জাকির হোসেন মজুমদার আরও বলেন, এটা ছোটখাটো এমএলএম ব্যবসা। মানুষের কাছে গিয়ে বলতো, জিনিসের মূল্য পরিশোধ করতে না পারলে অল্প কিংবা অর্ধেক মূল্য জমা দিয়ে মালামাল নিতে পারবেন। বাকি মূল্য মালামাল নেওয়ার পর অল্প অল্প করে কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন। পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জমা হলে লাখ টাকা লোন নিতে পারবেন।
উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, তাদের কথা বিশ্বাস করে পূর্ব বিল্ববাড়ি গ্রামের ইউসুফ হাওলাদারের স্ত্রী লাইলী আক্তার প্রতিদিন ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৩০ টাকা করে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার টাকা জমা দেন। তাকে পণ্য কিংবা টাকা না দেওয়ায় তিন জনের নামে প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের মামলা করেন। এ ছাড়া অনেক ভুক্তভোগী মামলা দিতে চাচ্ছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দম্পতিকে গ্রেফতার করে কারাগারে ও এবং ছেলেকে প্রবেশন কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম, সহকারী পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম শামীম, এয়ারপোর্ট থানার ওসি কমলেস চন্দ্র হালদার।