নিজস্ব প্রতিবেদক: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বিশ্রামাগারে মাদক সেবনের ঘটনা ঘ‌টে‌ছে। চি‌কিৎস‌কের ওই বিশ্রামাগারে মাদকের আসর থেকে ধারণ করা ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে ওই বিশ্রামাগারের ভেতরে এমন একটি মাদকসেবনের দৃশ্য ধারণ করা হয় ওই ভিডিওতে। ওই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আবুল বাশারের হাতে তাস। তিনি তাস খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারই পাশে বসা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. মুনিবুর রহমান মাদক সেবন করছেন।

তার পাশে বসে আছেন বহিরাগত এক যুবক। বহিরাগত ওই যুবকের আগে ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন। ভিডিওটি দেখে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের সামনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একাধিক ব্যক্তি। স্থানীয়রা বল‌ছেন, মাঝে-মধ্যেই জরুরি বিভাগে কর্তব্যকালীন ওই বিশ্রামাগারে মাদকের আসর বসান উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আবুল বাশার। তা‌দের সঙ্গে থাকেন বহিরাগত মাদকসেবীরা। সারা রাত চলে তাস খেলা ও মাদক সেবন। এ সময় বিশ্রামাগারের বাইরে পাহারায় থাকেন বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নৈশপ্রহরীরা।

ওই ভিডিও বিষয় আবুল বাশার ও মুনিবুর রহমান কিছুই জানেন না বলে সাংবা‌দিক‌দের জানায়। তারা দাবি ক‌রেন, ওই ভিডিও ক্লিপে যাদের‌কে দেখা যা‌চ্ছে, তারা অপ‌রি‌চিত। ভি‌ডিও‌তে তারা কেউ নেই বলে দাবি করেন।বাউফলের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে মাদকের আসর বসার বিষয়টি দুঃজনক। এ বিষয়ে শিগগিরই হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যিনি অন্যায় করবেন তিনিই ফল ভোগ করবেন। মাদক সেবনের তথ্য প্রমাণ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।