আপডেট নিউজ, বরিশাল: হাওয়া ভবনের গডফাদাররা দেশের ক্ষমতা অবৈধভাবে দখল করতে যেন না পারে এজন্য নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপি অপরাজনীতি করছে। আমরা অপরাজনীতি করি না। শেখ হাসিনা মানবতার মা বলেই খালেদা জিয়া বাসায় থাকেন। হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করান। মানবিক কারণে তার সাজা স্থগিত করে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন মানবতার মা শেখ হাসিনা। তারপরও তারা বলে খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। তারপরও মির্জা ফখরুল একে একে মিথ্যা কথা বলছেন।

পার্বত্য শান্তি চুক্তির দুই যুগ উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় বরিশাল ফজলুল হক অ্যাভিনিউয়ের নগর ভবনের সামনে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, আমরা তার মৃত্যু কামনা করি না। আমরা চাই তিনি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক। আপনারা জানেন তিনি দুর্নীতি করে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। যারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, যারা আইনকে শ্রদ্ধা করতে জানে না, যারা দেশকে ভালোবাসতে পারে না, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে যারা খুশি হতে পারে না, সেই অপশক্তি ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশ বিরোধী রাজনীতি করবে এটা আমরা মেনে নেব না।

আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রকারী দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করতে পারবে না। যারা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চায়, যারা হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে রাজনৈতিক ফয়দা লুটতে চায় এখন তারাই আবার খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করছে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে অনেক বড় ডাক্তার আছে। তাদেরকে নিয়ে আসুন, বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। কিন্তু বিএনপির নেতারা সেই চেষ্টাও করছেন না। তারা চিকিৎসক নিয়ে আসার জন্য একটি কথাও বলছেন না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর কীভাবে জানাজা পড়বেন, কীভাবে ঢাকা শহরে সারাদেশ থেকে সন্ত্রাসী এনে জানাজার নামে অবস্থান ধর্মঘট করে ঢাকা শহর অচল করে দেবেন সেই ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে গরুর বায়না দিয়েছেন। গরুর বায়না দিয়ে কীভাবে খাওয়াবেন সেই ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, স্বাধীনতার ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য দৃঢ় সংকল্প ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজে হাত দেন। এই অঞ্চল বাংলাদেশের মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। সেই পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে শেখ হাসিনা এই গুরুদায়িত্ব দিয়েছিলেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর হাতে। এই কঠিন দায়িত্ব পালনের জন্য পদে পদে বাধা ছিল, ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল পাহারে যাতে শান্তি ফিরে না আসে। তবে সব বাধা পেরিয়ে আজ থেকে ২৪ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে পার্বত্য শান্তি চুক্তি করা হয়। আজ পাহারে শান্তি ফিরে এসেছে।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু, আনিসুর রহমান, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে নগরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সোহেল চত্বরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়।