অনলাইন ডেস্ক:: কক্সবাজারের আলোচিত মোরশেদ হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

জানা গেছে, কক্সবাজার সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের চেরাংঘাটা বাজার এলাকায় পানি সেচযন্ত্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ৭ এপ্রিল প্রতিপক্ষের হামলায় মোরশেদ আলী নিহত হন। নিহত মোরশেদ সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের মাইজপাড়ার ওমর আলীর ছেলে।

‘সারা দিনের রোজায় বেশি ক্লান্ত, মারতে চাইলে ইফতারের পর মারিও’ হামলার সময় মোরশেদ এমন কথা বলছিলেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এরপরও মোরশেদকে মাটিতে ফেলে মারধর ও কুপিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে মোরশেদকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই আইনজীবী জাহেদ আলী বলেন, পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী এলাকায় বাঁকখালী নদীতে স্থাপিত ‘রাবার ড্যাম সেচ প্রকল্পের’ অধীন একটি পানি সেচযন্ত্র ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে গত ডিসেম্বর মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেন তার চাচাতো ভাই নুরুল কবির। এ নিয়ে পানি সেচযন্ত্রটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা মতিউল ইসলাম মতির সঙ্গে নুরুল কবিরের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন নুরুল কবিরকে মারধর করেছিলেন।

এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন আমার বড় ভাই মোরশেদকেও মারধর করেন। পরে মিথ্যা অভিযোগ এনে নুরুল কবির ও মোরশেদসহ ১০-১২ জনের নামে থানায় মামলা করেন প্রতিপক্ষের মতিউল ইসলাম মতি।

নিহতের ভাই আরো বলেন, এরপর থেকে আমার ভাইসহ স্বজনদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন প্রতিপক্ষের লোকজন। তাদের হুমকিতে দু-তিন মাস পর্যন্ত আমরা একপ্রকার ঘরবন্দি জীবনযাপন করেছি। একা কোথাও চলাফেরা করা সম্ভব ছিল না।

জাহেদ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চেরাংঘাটা বাজারে একা ইফতার কিনতে যান আমার ভাই মোরশেদ। এতে আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের নেতা আবদুল মালেক ও সিরাজুল ইসলাম আলালসহ ১০-১৫ জন লোক ফাঁকা গুলি ছুড়ে তার ওপর হামলে পড়েন। এ সময় হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর পর তার শরীরের কয়েকটি স্থানে ছুরিকাঘাতও করা হয়েছে।