দশমিনা(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি॥

পিয়াস মল্লিক (১৫) রোল নম্বর-১ দশমিনা সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বরিশাল বোর্ড এর অধীনে এবছর এসএসসি পরিক্ষায় অংশ নিবেন সে। করোনা মহামারীর কারনে প্রায় দুই বছর বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ভালভাবে পরিক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারেনি পিয়াস। তাই উপজেলা প্রশাসনের উদ্দ্যেগে ২০২২ সালের এসএসসি পরিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তাবিত শর্ট সিলেবাসের আদলে ১০০ নম্বরের ইংরেজী ও গনিত পরিক্ষায় অংশ নিতে চলে আসেন দশমিনা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিক্ষা কেন্দ্রে। পরিক্ষা শেষে পিয়াস বলেন, বিগত দুটি বছর কোন পরিক্ষায় অংশ নিতে পারিনি তাই পরিক্ষায় অংশ নিতে পেরে খুবই ভাল লাগছে।

গতকাল শনিবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্দ্যেগে অনুষ্ঠিত পরিক্ষায় দশমিনা উপজেলার ৩৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার এক হাজার ৭০০ এসএসসি ও দাখিল পরিক্ষার্থী ওই পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করেন। উপজেলার ১৪টি পরিক্ষা কেন্দ্রে উৎসব মূখর পরিবেশে পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ড পরিক্ষার আদলে অনুষ্ঠিত পরিক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ভিজিল্যান্স ও ট্যাগ কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে পরিক্ষা তদারকি ও পর্যবেক্ষন করেন। এছাড়াও শতাধিক শিক্ষক পরিক্ষা হলে দ্বায়িত্ব পালন করেন। একযোগে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বেলা একটা পর্যন্ত টানা তিন ঘন্টা পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দশমিনা থানায় জমা রাখা পরিক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয় পরিক্ষা শুরুর এক ঘন্টা আগে। পরিক্ষা শেষে সকল পরিক্ষার্থীর খাতা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। পরিক্ষা কেন্দ্রগুলো ঘুরে পরিক্ষা মনিটরিং করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন আল হেলাল। দশমিনা সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজী শিক্ষক আব্দুল জলিল খান বলেন, ২০২২ সালের এসএসসি পরিক্ষার্থীরা দীর্ঘ দুই বছর কোন পরিক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তাই এই পরিক্ষা তাদের মনোবল বৃদ্ধি করবে। রনগোপালদী ইউনিয়নের গুলি আউলিয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম বলেন, ইংরেজী ও গনিতে আমাদের শিক্ষার্থীরা একটু দূর্বল তাই এই পরিক্ষা তাদের মানোন্নয়নে ব্যপক ভু’মিকা রাখবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বাংলাবাজার বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, পরিক্ষার আগে পরিক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীদের মনোবল বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া এই পরিক্ষার তারিখ ঘোষনার পরে ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়ায় যতটা মনযোগী হয়েছে বিগত দুই বছরে তাদের মধ্যে সেটা পরিলক্ষিত হয়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সেলিম মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখবে এই পরিক্ষা। এটা একঅনন্য উদ্যোগ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, পুরো বোর্ড পরিক্ষার আদলে আমরা পরিক্ষাটা নিয়েছি। হয়তো সার্টিফিকেট দিতে পারব না, তবুও এই পরিক্ষার ফলাফল ঘোষনার পর বিগত দুই বছর লেখাপড়ায় দূর্বল হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের চিহিৃত করে তাদের মানোন্নয়নে শিক্ষকরা চেষ্টা চালাতে পারবেন॥