এম.এ.আর.নয়ন: চুয়াডাঙ্গায় তীব্র দাপদাহে জনজীবন একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দেখা মিলছে না বৃষ্টির৷ প্রচণ্ড রোদ-গরমে জেলার শ্রমজীবী মানুষসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছেন। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। আর প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সিয়াম পালন করছেন জেলার ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ। সোমবার (২৫শে এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গা জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল রবিবারও জেলায় একই তাপমাত্রা ছিলো। যা চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এছাড়া গত শনিবার জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ওইদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো।
এদিকে সারাদিন সিয়াম পালন শেষে ইফতারের পর শরবত বিক্রির দোকানগুলোতে ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে প্রচণ্ড রোদ গরম উপেক্ষা করে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে নতুন পোশাক কেনার জন্য জেলা ও উপজেলার মার্কেটগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতা সাধারণ। কারণ গত দুই বছর করোনা মহামারীর কারণে তারা শান্তিতে কেনা-কাটা করতে পারেননি। এক রকম চোর-পুলিশ খেলা করেই বিগত দুই বছর তারা ঈদের কেনাকাটা করেছিলেন। এছাড়া জেলায় প্রতিদিনই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিভিন্ন সংগঠনের দোয়া ও ইফতার মাহফিল।
তবে তাপমাত্রার সাথে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। ইফতার ও তারাবির নামাজের সময় মোটামুটি বিদ্যুৎ থাকলেও তারাবির নামাজের পর বিদ্যুতের যাওয়া আসার খেলা নিয়মিতভাবেই চলছে। তবে দিনের বেলায় বিদ্যুৎ ভালোই থাকছে। প্রচণ্ড রোদ গরমে মানুষের পাশাপাশি নাভিশ্বাস উঠছে গৃহপালিত প্রাণীসহ সবধরণের পশু-পাখির। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে এই তাপদহ আরও কয়েকদিন চলতে পারে। উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রতিবছর একাধিকবার গ্রীষ্ম মৌসুমে সর্বোচ্চ ও শীত মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।