ভোলা প্রতিনিধি:: ভোলায় প্রচণ্ড গরমে শিশুদের ঠান্ডা, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়াসহ নানা রোগের প্রকোপ বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতেও দিন দিন রোগীদের চাপ বাড়ছে। শয্যা সংকট থাকায় একটি বেডে ২-৩ জন করে রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে চরম দুর্ভোগ পড়ছেন রোগী তাঁর স্বজনরা।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ১২জন শিশু নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এনিয়ে গত এক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৬ জনে। গত এক মাসে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪৪৫ জন।

ভোলা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে রোগীদের চাপ। একদিকে গরম অন্যদিকে পর্যপ্ত শয্যা না থাকায় একটি বেডে গাদাগাদি করেই ২-৩ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডের ২৪টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছে ৬৩জন শিশু।

সদর উপজেলার রাজাপুর থেকে শিশুকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ফাতেমা বেগম বলেন, তিন দিন ধরে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। ছেলে নিউমোনিয়া হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে, আগের চেয়ে কিছুটা ভালোর দিকে।

দৌলতখান থেকে পাঁচ বছর বয়সের ছেলে আল আমিনকে নিয়ে আসা মো. আলাউদ্দিন জানান, চারদিন আগে হঠাৎ করে ছেলের ঠান্ডা দেখা দেয়। এর পর সেটি বৃদ্ধি পেলে প্রথমে দৌলতখান হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে একদিন রাখার পর ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। এখন কিছুটা ভালোর দিকে।

ভোলার সিভিল সির্জন ডা. কে এম শফিকুজ্জামান জানান, গরমের কারণে ঘাম থেকে শিশুদের নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। চিকিৎসকরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতে পর্যপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের আরও যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।