অনলাইন ডেস্ক:: দিনাজপুর সদরের উত্তর মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে পাঠদানের কথা থাকলেও বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষের চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ গুটিয়ে রেখে এখন ইরি ধান শুকানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক এক ব্যবসায়ীর হাতে বিদ্যালয়ের চাবি তুলে দেওয়ার পরও না জানার ভান করছেন। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন যেন ইরি ধানের চাতালে পরিণত হয়েছে।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উত্তর মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে ধান রাখছেন এক ব্যবসায়ী। মূলত শ্রেণিকক্ষগুলো ধানের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি বিদ্যালয়ে শ্রেণি কক্ষে থেকেই তিনি ধানের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের উত্তর মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়টির পশ্চিম দিকের বিল্ডিংয়ের শ্রেণিকক্ষে শিশুদের বসার বেঞ্চ গুটিয়ে রেখে ধান মজুত করে চাতালের মতো রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি (নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক শর্তে ) নিজের অপারগতা প্রকাশ করে বলেন প্রভাবশালীর দাপটে কিছু করার নেই ।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সমসের আলী’র সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হল তিনি বলেন, ধান রাখার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। রোববার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, কে বা কারা রেখেছে তা আমি জানি না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ধান সরানোর ব্যবস্থা নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমি জানতে পেরেছি এলাকার লোকজন পোকা ধান কেটে স্কুল মাঠে মাড়াই করেছেন। তাই ধান শুকানোর জন্য বিদ্যালয়ের মাঠটি ব্যবহার করছেন তিনি। বৃষ্টির কারণে শ্রেণিকক্ষে ধান রাখা হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষকের এমন দাবির সত্যতা মেলেনি।

স্থানীয়রা বলেছেন, দীর্ঘ দিন ধরে এই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ধান মজুত রাখা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক এই ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রায়ই খোস গল্পে মেতে থাকতে দেখা যায়। প্রধান শিক্ষক ধান ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন।

এই বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তাকে ফোনে পাওয়া না যায়নি।