পিরোজপুর প্রতিনিধি:: পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের ছাদ ধসে আধুনিকা খান নামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ৬৯ নম্বর উত্তর ভাণ্ডারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের অফিস সহকারী ও সদরের স্টিমারঘাট মহল্লার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ খানের মেয়ে।
আহত স্কুলছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬৯ নম্বর উত্তর ভাণ্ডারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার তৃতীয় শ্রেণিকক্ষে যথারীতি পাঠদান চলছিল। হঠাৎ জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের ছাদের পলেস্তারা শ্রেণিকক্ষে খসে পড়ে। এ সময় আধুনিকার ঘাড় ও বাহুতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এ সময় বিদ্যালয়ে ছাদ ধসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আহত ছাত্রীকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত স্কুলছাত্রীর বাবা আবুল কালাম আজাদ দুর্ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যালয়টি বহু পুরাতন। দীর্ঘদিনে সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে। অথচ এ বিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব তোফাজ্জেল হোসেন পড়াশুনা করেছেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষ মোবাইলে কল করে আমার মেয়ে আহত হওয়ার খবর দিয়েছেন। তারাই হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। আমার মেয়ে কিছুটা সুস্থ তবে তার ঘাড়ে ব্যথাসহ আতঙ্ক কাটেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাম প্রসাদ পাল শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় ছাদের পলেস্তারা খসে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, ১৯৪৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত এ ভবনটি ২০০৪ সালে নির্মাণ করা হয় । বহু বছর ধরে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে সংস্কার হয়নি। নতুন স্কুল ভবন দরকার। আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আতঙ্কেই পাঠদান করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাছির উদ্দিন খলিফা বলেন, প্রধান শিক্ষক তাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। জরাজীর্ণ কক্ষে পাঠদান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান।