নারী চিকিৎসককে হত্যার ঘটনায় র্যাবের হাতে রেজা গ্রেফতার
Nayon Chuadanga
এম.এ.আর.নয়ন:রাজধানীর পান্থপথে ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট নামক আবাসিক হোটেলে জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিক (২৭) নামের এক নারী চিকিৎসককে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও একমাত্র আসামি রেজাউল করিম ওরফে রেজা (৩১)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব। বৃহস্পতিবার (১১ই আগস্ট) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর মুরাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত হতে উদ্ধার করা হয় রক্তমাখা গেঞ্জিসহ অন্যান্য জিনিস। গ্রেফতারকৃত রেজা কক্সবাজার সদর উপজেলার মৃত নবী হোসাইনের ছেলে। সে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলো। র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত রেজা জানায়, ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিকটিমের সাথে তার পরিচয়ের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং অক্টোবর/২০২০ ইং সালে তারা বিয়ে করে। পরিবারের অগোচরে বিয়ে হওয়ায় তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে। ভিকটিমের সাথে সম্পর্ক থাকাকালীন গ্রেফতারকৃতের একাধিক নারীর সাথে সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। বিষয়টি ভিকটিম জানতে পারলে বিভিন্ন সময়ে আলাপচারিতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এই নিয়ে তাদের মাঝে বিভিন্ন সময় বাগবিতন্ডাও সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রেজা তার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ভিকটিমকে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সে ভিকটিমকে হত্যার জন্য তার ব্যাগে ধারালো চাকু নিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃত রেজা গত বুধবার (১০ই আগস্ট) ভিকটিমকে তার জন্মদিন উদযাপনের কথা বলে পান্থপথের ‘ফ্যামিলি অ্যাপার্টমেন্টে’ নামে একটি আবাসিক হোটেল নিয়ে যায়। ঐ অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থানকালে ভিকটিমের সাথে গ্রেফতারকৃতের বিভিন্ন নারীর সাথে সম্পর্ক নিয়ে কথা কাটাকাটি, বাগবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। এসময় গ্রেফতারকৃত রেজা তার ব্যাগ থেকে ধারালো ছুরি বের করে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যার পর সে গোসল করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয় যাতে হত্যার কোন আলামত তার শরীরে দেখা না যায়। হত্যাকাণ্ডের পর যাওয়ার সময় সে ভিকটিমের মোবাইল ফোনও সঙ্গে নিয়ে যায় এবং আবাসিক হোটেলের রুমের দরজা বাইরে থেকে তালা দিয়ে বন্ধ করে দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে রেজা আরও জানায়, হোটেল থেকে বেরিয়ে প্রথমে সে মালিবাগে তার বাসায় যায়। বাসা থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে একটি হাসপাতালে গিয়ে তার নিজের হাতের ক্ষত স্থান সেলাই করে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। পরবর্তীতে আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসযোগে চট্টগ্রামে গিয়ে মুরাদপুরে আত্মগোপন করে। সেখান থেকে র্যাবের অভিযানে সে গ্রেফতার হয়। উল্লেখ্য, গত বুধবার (১০ই আগস্ট) রাতে রাজধানীর পান্থপথে নিজেদেরকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট নামের একটি আবাসিক হোটেল ওঠেন নারী চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈমা সিদ্দিক ও রেজাউল করিম ওরফে রেজা। ওই রাতেই আবাসিক হোটেলটি থেকে নারী চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে রাজধানীর কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নারী চিকিৎসকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে র্যাব হত্যাকান্ডে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।