এম.এ.আর.নয়ন: হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা, প্রশংসা এবং সহকর্মীদের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় চুয়াডাঙ্গা থেকে বিদায় নিলেন মানবিক পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম, বিপিএম -সেবা। বদলিজনিত বিদায়ী আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার (২২শে আগস্ট) দুপুরে তিনি চুয়াডাঙ্গা থেকে নতুন কর্মস্থল ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পুলিশ সুপারের বদলির খবর শুনে বিগত কয়েকদিন ধরেই তাকে বিদায়ী শুভেচ্ছা ও নতুন কর্মস্থলের জন্য শুভকামনা জানাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ছুটে যান বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পুলিশ সুপার তাদের সকলের সাথেই বিদায়ী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের ভালোবাসায় সিক্ত হন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখে চুয়াডাঙ্গা জেলায় পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদান করেন মো. জাহিদুল ইসলাম। যোগদানের পর থেকে বিগত প্রায় ৩ বছর ধরে তিনি পেশাদারী দায়িত্বের পাশাপাশি নানাধরনের মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করে জেলাবাসীর অন্তরের অন্তঃস্থলে স্থান করে নেন। অর্জন করেন মানবিক পুলিশ সুপারের খ্যাতি। পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিয়েছিলেন বিট পুলিশিংসহ নানামুখী উদ্যোগ। সর্বদা হাসিমুখে শুনতেন জেলার সর্বস্তরের শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা। দিন-রাতের যেকোন সময় পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলতে পারতেন যে কেউ। সবার ফোন কল রিসিভ করে কথা বলতেন সাবলীলভাবে।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি বিস্তার প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করতে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম নিয়মিত চালিয়েছেন প্রচারণা। করোনায় কর্মহীন হয়ে যাওয়া মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী। শীত মৌসুমে শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করেছেন শীতবস্ত্র। এতিম, প্রতিবন্ধী ও পথশিশুদের প্রতি ঈদে দিয়েছেন নুতন জামা ও ঈদ সালামি। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের দিয়েছেন হুইল চেয়ার, কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে পৌঁছে দিয়েছেন উপহার সমাগ্রী। জোড়া লাগিয়েছেন ৩৮৪টি ভাঙা সংসার। তার নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ একাধিকবার অর্জন করেছে খুলনা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ জেলার পুরস্কার। রেঞ্জ ডিআইজির নিকট থেকে তিনি পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপারের পদক। গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য পুলিশ সপ্তাহ ২০২১ সালে তিনি বিপিএম-সেবা পদকে ভূষিত হন।