পুলিশের মাঝে স্বর্ণের বারসহ আটককৃত দুই আসামি | আপডেট নিউজ
এম.এ.আর.নয়ন: যশোর ডিবি ও শার্শা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ৯ কেজি ৭৫৮ গ্রাম ওজনের ৩০টি স্বর্ণের বারসহ দুই পাচারকারী আটক হয়েছে। জব্দকৃত এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য সাত কোটি ৫৭ লক্ষ ১২ হাজার ৬৮০ টাকা। বৃহস্পতিবার (১লা সেপ্টেম্বর) রাতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য আহত ও পাচারকাজে সহায়তাকারী একজন নিহত হয়েছেন। আটককৃতরা হলেন, কুমিল্লার হোমনা থানাধীন সাতারদিয়া গ্রামের আবুল সরদারের ছেলে রবিন (৩২) এবং পাঁচগাছিয়া গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে আবুল কাশেম (৩১)। নিহত ব্যক্তি হলেন, ওলিয়ার ওরফে ওলি মাকরা (৩৬)। তিনি যশোরের বেনাপোল থানাধীন রাজাপুর গ্রামের মৃত জাহান আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, স্বর্ণ পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে যশোর ডিবি ও শার্শা থানা পুলিশ যৌথভাবে শার্শা থানাধীন জামতলা বাজার সংলগ্ন যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের উপর চেকপোস্ট স্থাপন করে। চেকপোস্ট পরিচালনাকালে সাতক্ষীরা থেকে যশোর অভিমুখে সাদা রংয়ের একটি প্রাইভেটকার আসতে দেখে গাড়িটি থামার জন্য সংকেত দেয় পুলিশ। গাড়িটিতে এ সময় চালকসহ মোট দুইজন ছিলো। তাদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে তারা স্বর্ণ পাচারের জন্য চলাচল করছে। এমন সময় সড়কের দুই প্রান্ত দিয়ে ১০-১৫টি মোটরসাইকেলযোগে ২০-২৫ জন ব্যক্তি এসে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ৪-৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিস্ফোরিত ককটেলে দুইজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
আত্মরক্ষার্থে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে আটককৃত আসামি রবিনের শরীর ও গাড়ির মধ্যে বিশেষ কায়দায় রক্ষিত অবস্থায় মোট ৩০টি স্বর্ণের বার উদ্ধারপূর্বক তা জব্দ করা হয়। এছাড়া জব্দ করা হয়, একটি প্রাইভেটকার, যার রেজিস্ট্রেশন নং ঢাকা মেট্রো-গ-২২-০৪২৪, ৩টি মোটরসাইকেল ও ৬টি মোবাইল। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ গজ দূরে সড়কের পাশে আহত অবস্থায় মোটরসাইকেলের নিচে এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে শার্শায় থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।