অনলাইন ডেস্ক:: যশোরের মণিরামপুরের স্মরণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের পেছনে একটি স্কুলভ্যাগ ভর্তি টাকা পাওয়া গেছে। রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়রা ব্যাগভর্তি টাকা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে ভ্যাগ খুলে ১৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
এদিকে টাকা উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদদাতা জুবায়ের হোসেন ও আজাদ নামের দুই যুবককে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে পুলিশ।
তাদের বাড়ি উপজেলার স্মরণপুর গ্রামে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া টাকাগুলো ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কম্পানির ঝিকরগাছা শাখা দপ্তরের। গত শনিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে দপ্তরটির তালা ভেঙে ২৬ লাখ টাকা ছিনতাই হয়েছে। এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানার পুলিশ ওই কম্পানির শাখার ব্যবস্থাপকসহ ছয় কর্মীকে রাতেই আটক করেছে বলে জানা গেছে। রবিবার সকালে মণিরামপুরে টাকা উদ্ধারের ঘটনাস্থল থেকে দুজনসহ ছিনতাইয়ের ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।
তাদের তিনজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন স্মরণপুর গ্রামের গ্রাম পুলিশ রমজান আলীর ছেলে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোর বিক্রয়কর্মী সোবহান আলী (২৮), একই গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে অপর বিক্রয়কর্মী জুবায়ের হোসেন ও ফুরকান আলীর ছেলে আজাদ (২৫)।
স্মরণপুর গ্রামের গ্রাম পুলিশ রমজান আলী বলেন, রবিবার সকালে স্মরণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের পেছনে স্কুলভ্যাগ ভর্তি টাকা পাওয়া গেছে। পরে ঝিকরগাছা থানার পুলিশ ও মণিরামপুরের খেদাপাড়া ক্যাম্পের পুলিশ এসে লোকজনের সামনে গুনে দেখে ব্যাগে ১৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা। তিনি আরো বলেন, প্রথমে ব্যাগের খবর পুলিশকে ফোনে জানান স্কুলের পাশের বাড়ির জুবায়ের। পরে এলাকার লোকজন টাকা পাওয়ার কথা শুনে সেখানে জড়ো হয়। এ সময় গ্রামের আজাদ নামের এক যুবক তিন বান্ডেল (দুই লাখ) টাকা নিয়ে দৌড় দেন। পরে গ্রামের লোকজন তাকে তাড়া করে সেই টাকা উদ্ধার করে।
পুলিশকে টাকার সংবাদ দেওয়া জুবায়ের ওই টোব্যাকো কম্পানির কর্মী ছিলেন। গত দুই-তিন দিন তিনি কাজে যাননি। রবিবার সকালে তার বাড়ির পাশে টাকার ব্যাগ পাওয়া যায়।
খেদাপাড়া ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সমেন বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনা ঝিকরগাছা থানার। সকালে তারা এসে টাকা উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। আমি তাদের সহযোগিতা করেছি। ’
ঝিকরগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, ‘এটা ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনা না। ওই টোব্যাকো কম্পানির লোকজন নিজেরা টাকা রেখে চুরির নাটক সাজিয়েছে। আমরা চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছি। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মণিরামপুরের স্মরণপুর স্কুল চত্বর থেকে ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮ টাকা উদ্ধার হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’