আপডেট নিউজ: চিকিৎসক নয় কথিত পীরের ছেলের দাবি, তার ফুঁ-তে ভালো হয়ে যাবে মমতাজ বেগম (৬২) এর গলার ব্যাথা। আর সেই ফুঁ দেয়ার পরপরই নিজ থেকেই গলার চেইন, কানের দুল ও হাতের ব্যাগটি দিয়ে দেন কথিত সেই দাড়িওয়ালা ধার্মিক ব্যক্তিকে। কিছুক্ষন পর যখন সে মোহ কেটে স্বাভাবিক হন তখন দেখেন আশপাশে কেউ নেই, সবকিছু নিয়ে সটকে পরেছে কথিত ধার্মিক সেই ব্যক্তি। এরপর দীর্ঘ প্রায় আধঘন্টা হাসপাতাল কম্পাউন্ডের বিভিন্ন স্থানে খুজেও সন্ধান পাওয়া যায়নি কথিত ধার্মিক সেই ব্যক্তিকে। তাই সাথে থাকা সবকিছু হারিয়ে গলায় ব্যাথা নিয়েই বাড়িতে ফিরতে হয়েছে বৃদ্ধ মমতাজ বেগমকে।
বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে
শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম)হাসপাতাল ভবনের পরিচালকের কার্যালয় সংলগ্ন গেটের সামনে এ ঘটনার শিকার হন বরিশাল নগরের দক্ষিন আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দা মমতাজ বেগম।
তিনি বলেন, গলায় ব্যাথা থাকার কারনে শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকদের স্মরনাপন্ন হন তিনি। চিকিৎসকদের দেয়া পরীক্ষাগুলো করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে আজ সকালে বাসা থেকে হাসপাতালের দিকে রওয়ানা দেন। হাসপাতালের পরিচালকের গেটের সামনে পৌঁছালে একটি লোক আমাকে অপর একটি দাড়িওয়ালা পাঞ্জাবি পড়া ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিকে দেখিয়ে তাকে চিনি কিনা এমন প্রশ্ন করেন। আমি না উত্তর দিতেই ওই লোকটি বলেন, খান জাহান আলীর ছেলে। ওনাকে ছালাম দিন, নয়তো ক্ষতি হবে। কেন কিসের ক্ষতি হবে তা না জানতে চেয়ে কিছুটা ভয়ের মধ্যেই ওই ব্যক্তিকে ছালাম দিলে, সাথেসাথে কেন আমি হাসপাতালে যাচ্ছি তা জানতে চান।
মমতাজ বেগম বলেন, গলা ব্যাথার কারণ বলতেই, পরিচয় করিয়ে দেয়া লোকটি বললেন- হাসপাতালের ডাক্তারের থেকে ধার্মিক ব্যক্তির কথিত ছেলে ফুঁ- দিলে নাকি ভালো হয়ে যাবে। এরপর গলায় ফুঁও দেন, কিন্ত তারপর কি হলো কিছু বুঝতে পারলাম না। আমার গলায় থাকা স্বর্নের চেইন,কানের দুল, হাতের ব্যাগটিও তাদের দিয়ে দেই।
তিনি বলেন, এরমাঝে আরও এক নারীর কথিত ওই ধার্মিক ব্যক্তিতে টাকা-পয়সা সাধেন কিন্তু টাকা-পয়সা দিয়ে কি করবেন এমন প্রশ্ন করলে সেই নারী কলেজের দিকে হেটে চলেও যান।
মমতাজ বেগম বলেন, যখন স্বাভাবিক হই তখন চারপাশে কথিত ধার্মিক ব্যক্তিসহ ওই দুই ব্যক্তি এবং নারীকে খুঁজতে থাকি। কিন্তু দীর্ঘ আধঘন্টা গোটা হাসপাতাল কম্পাউন্ড ঘুরেও তাদের আর খুঁজে পাইনি।
তিনি বলেণ, আমার সবকিছু নিয়ে গেছে তাতে দুঃখ নেই, তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজগুলো যদি ফিরিয়ে দিতো তাহলে সহজে গলা ব্যাথার চিকিৎসাটা করাতে পারতাম। নয়তো ওই পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো আবার করাতে হবে।
এদিকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় কোন অভিযোগ না দিলেও এ চক্রের হাত থেকে পরিত্রান চান মমতাজ বেগম ও তার পরিবার।
অপরদিকে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে, চুরি-ছিনতাইসহ প্রতারণা রোধে নিয়মিতো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ওয়ার্ড মাষ্টার আবুল কালাম।
তবে এ ধরণের ঘটনা ঘটলে থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করার পরামর্শ দেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিন বিভাগের কর্মকর্তারা।