আপডেট নিউজ:: ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এ বাকেরগঞ্জে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন গর্বের বাকেরগঞ্জ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২৮ অক্টোবর একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি টি নিচে প্রকাশ করা হলো।
বাকেরগঞ্জ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১০ টি নদী বেষ্টিত উপজেলা। প্রাকৃতিক দূর্যোগ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এই এলাকার প্রতি বছরই আঘাত হানে এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয় নদী বেষ্টিত এই এলাকার কমবেশী প্রতিটি পরিবার এবং প্রায় সকল মানুষই। বিশেষ করে এখানকার কৃষক ও খামারিরা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকেন। প্রকৃতির সাথে এভাবেই যুদ্ধ করে, বাকেরগঞ্জের মানুষ বসবাস করছে।
২৪ অক্টোবর ২০২২ খ্রিস্টাব্দে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং বাকেরগঞ্জে নিরব ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এবারের ঘূর্ণিঝড় স্মরণকালের ভয়াবহ এবং সর্বগ্রাসী রূপ নিয়ে বাকেরগঞ্জের মানুষের কাছে আবির্ভূত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ের ভীষণতায় বাকেরগঞ্জের মানুষ শুধু আতঙ্কিত হয়নি, হয়ে পড়েছে হতবিহ্বল। নদীর পাড় ভেঙ্গেছে, গাছ উপড়ে গেছে, রাস্তা ভেঙ্গে গেছে, মাঠের পর মাঠ সোনালী ফসল বিশাল জলরাশির তলে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। মাছের খামারগুলো ডুবে মাছ গুলো পানির তোরে ভেসে গেছে।

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় বাকেরগঞ্জের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অত্যধিক। বাকেরগঞ্জের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সমাজকর্মী এবং জনগণের সাথে কথা বলে আমরা ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এর ক্ষয়ক্ষতির এই প্রতিবেদন টি তৈরি করেছি, ঘরবাড়ি ধ্বংস বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১২৮ টি, মাছের ঘের বা পুকুর পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৮৬ টি এবং আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১৩৩ টি, পানের বরজ ধ্বংস বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২৬ টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আংশিক ক্ষতি হয়েছে

২৩ টি, ব্যবসায়িক দোকান ক্ষতি হয়েছে ১৮৪ টি, বাঁশের বা কাঠের সাঁকো ধ্বংস বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৫৩ টি, জেলে ও মাঝিদের নৌকা-ট্রলার ধ্বংস বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৪৬ টি, গবাদী পশুর মৃত্যু হয়েছে ১৭ টি ও মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে ২১৮ টি, নার্সারি ধ্বংস বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৭৭ টি, অসংখ্য হাঁস-মুরগী-কবুতরের মৃত্যু হয়েছে, পাকা রাস্তা-আধা পাকা রাস্তা-কাঁচা রাস্তা পানির তোরে ভেসে গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, পানির প্লাবনে শতশত হেক্টর জমির বোরো ধান এবং রবি ফসল পানি ও ঝড়ো বাতাসে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, মারাত্মক বা আংশিক আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে ১০৯ জন মানুষ।
ভয়াবহ এই ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ বাকেরগঞ্জের অসহায় এই সব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষের বড়ই অভাব। সরকারি সাহায্য সহযোগিতা বলতে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কিছু দেখা যায় নাই।
বাকেরগঞ্জের বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের দিকে মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী গণ সহ সকল সহৃয়বান মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।