বরিশালের উজিরপুরে বাবা-মাকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় দুই ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
উজিরপুর থানার ওসি কামরুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার হারতা ইউপির কালবিলা গ্রামের অমল মণ্ডল ও তার ছোট ভাই শ্যামল মণ্ডল।
বিষেশ্বর মণ্ডল বলেন, ‘শ্যামল মণ্ডল, অমল মণ্ডল, বিমল মণ্ডল তিন ভাই। তারা আমাদের সঙ্গে কখনো দুর্ব্যবহার করতো না। বড় ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ছেলের বউ মুক্তা মণ্ডল সংসারে আসার পর অশান্তি শুরু হয়। তুচ্ছ ঘটনার বিষয়ে মুক্তা মণ্ডল ছেলেদের কাছে অভিযোগ করতেন। এরপর আমাদের মারধর করে ছেলেরা। এই বিষয়টি লজ্জায় কাউকে জানাইনি। সম্প্রতি বড় ছেলের বউয়ের সঙ্গে মেজ ছেলে ও ছোট ছেলের সম্পর্কের বিষয়টি নজরে আসে। পরে বিষয়টি বড় ছেলেকে জানালে বিশ্বাস করেনি। উল্টো তাদের জানিয়ে দেয়। এরপর তারা আমাকে ও সরস্বতীকে বেধড়ক মারধর করে’।
২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার কৃষ্ণ কান্ত বাড়ৈ জানান, দুই ভাই প্রায় মা-বাবাকে মারধর করে। এর আগেও মারধর করেছে। ওদের মিলিয়ে রাখতে চেষ্টা করেছি। শনিবার ফেসবুকে মারধরের ভিডিও দেখে স্থির থাকতে পারিনি। এভাবে মাকে জুতাপেটা করা কেউ সহ্য করবে না।
হারতা ইউপি চেয়ারম্যান অমল মল্লিক জানান, দুই ছেলের মারধরের ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেছে। এ সময় দুই ছেলেকে নোটিশ করা হয়। পরে একই দিন দুই ছেলেকে ডেকে শুনানির দিন ধার্য্য করা হয়। অভিযোগ দেওয়ায় দুই ছেলে মাকে পিটিয়েছে। পরে শনিবার এ খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর লোকজনের মাধ্যমে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত মা জানান, বড় ছেলে অমল মণ্ডলের স্ত্রীর সঙ্গে ছেলে বিমল ও শ্যামল মণ্ডলের অবৈধ মেলামেশা আছে। এ নিয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়। তাতে মারধর করে আমাদের। মারধরের বিচার চেয়ে চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিলে শনিবার সন্ধ্যায় আমাকে টেনে বাড়ি থেকে বেড় করে দিয়ে ১০০ জুতাপিটা করে’।
উজিরপুর থানার ওসি কামরুল হাসান জানান, রোববার রাতে এ ঘটনায় বৃদ্ধ বিষেশ্বর মণ্ডল ছেলেদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরইমধ্যে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।