ভোলা প্রতিনিধি:: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আছলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছে। সোমবার (১৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বদ্দারহাট বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের মধ্যে রাসেল জামাদার নামের একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কাশেম মেলেটারী অভিযোগ করে বলেন, তিনি আছলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে প্রচারণার অংশ হিসেবে সোমবার রাতে ইউনিয়নের বদ্দারহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে ভোট চাইতে যান। তিনি সেখানে প্রচার-প্রচারণা শেষ করে চলে আসেন। পরে প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরে আলম মাস্টার, তার দুই ভাইসহ আরো প্রায় ২০-২৫ জন কর্মী এসে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও সেখানে থাকা তার কর্মী আব্দুর রাজ্জাক, মাকসুদ, মনির উদ্দিন, লোকমান, সুমনসহ ছয়-সাতজনকে মারধরে আহত করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, তিনি ওই সময় সেখানে ছিলেন না। স্বতন্ত্র প্রার্থী কাশেম মেলেটারী বহিরাগত লোকজন নিয়ে বাজার দিয়ে মিছিল করে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাখা একটি প্রতীকী নৌকা ফেলে দেন। পরে সেখানে থাকা রাসেল নামের ছাত্রলীগের এক কর্মী প্রতিবাদ করলে কাশেম মেলেটারীর এক কর্মী তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তখন দলীয় কার্যালয়ও ভাঙচুর করে তারা। এ ছাড়াও সেখানে থাকা হেলাল, আব্বাস, আল আমিন, জাহের, জামাল ও নোমানকে মারধর করে আহত করা হয়। পরে স্থানীয় নৌকার কর্মী-সমর্থকরা ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কোনো নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়নি। তারা নিজেরা নিজেদের অফিস ভাঙচুর করে মিথ্যা দোষারোপ করছে।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোরাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয় পক্ষকে ডেকে নির্বাচনী আচারণবিধি মেনে প্রচার-প্রাচারণা চালাতে বলা হয়েছে এবং কোনো প্রকার সহিংসতা না করার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও উভয় পক্ষকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলা জটিলতার কারণে দীর্ঘ এক যুগ ধরে আছলামপুর ইউনিয়নের নির্বাচন বন্ধ ছিল। গত ১৭ অক্টোবর এ ইউনিয়নের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও আছলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরে আলম মাস্টার (নৌকা), স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম মেলেটারী (আনারস) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম (হাতপাখা)। আগামী ২৮ নভেম্বর এ ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।