নিজস্ব প্রতিবেদক:: আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। মাসলমানদের সব থেকে বড় উৎসব। এদিন আনন্দ আর উৎসবে মেতেছে দেশের সব বয়সের নাগরিকরা। তবে কয়েকটি পেশার মানুষকে দেখা গেছে অন্যের সেবায় কাটিয়ে দিতে। নিজে উৎসব আনন্দে না মাতলেও মানুষের সেবাই যেন তাদের ‘ঈদ আনন্দ’।
রাজধানীসহ সারাদেশে পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবাই যখন ব্যস্ত তখন পেশাগত দায়িত্বের পেছনে ছুটতে হচ্ছে তাদের। ঈদ আনন্দের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্বকে বড় করে দেখা পেশাগুলো মধ্যে রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নিরাপত্তা কর্মী, চিকিৎসক ও নার্স, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিন এবং রেডিও-টেলিভিশান, সংবাদপত্র ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা।
শুধু ঈদ কিংবা অন্যকোনো উৎসবের আনন্দঘন মুহূর্তে নয়, জাতির ক্রান্তিলগ্ন, দুর্যোগসহ যেকোনো পরিস্থিতিতেই ত্যাগ করে চলতে হয় এসব পেশার মানুষকে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, হৈ-হুল্লোড়ে মাতার সুযোগ হয় না তাদের।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
ঈদ কিংবা পূজা মানেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঁধে বিশাল দায়িত্ব। এই পেশার মানুষের ছুটি খুবই কম। কখনো কখনো ছুটি পেলেও তা দু’এক দিনের বেশি নয়। এর মধ্যে ট্রাফিক পুলিশ ঈদের দিনেও বৃষ্টি, রোদ উপেক্ষা করে তার দায়িত্ব পালন করে। অথচ দেখলে মনেই হবে না তাদের কোনো কষ্ট আছে। রাস্তা বাস, ট্রাক ও রিকশাই যেন তাদের পরিবারের সদস্য।
চিকিৎসক ও নার্স
মানবতার সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের ঈদ আনন্দ বলে কিছু নেই। হাসপাতালগুলোর দিকে তাকালে খুব সহজেই তা বোঝা যায়। ঈদের সময় রোগীর সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার উপায় নেই। তাই অনেক ডাক্তার, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঈদের ছুটি মিলে না। এছাড়া রোগ বালাই তো আর ঈদের ছুটিতে বিরত থাকে না। কাজেই ডাক্তারদের ঈদ চিকিৎসাকেন্দ্রেই হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মী
সবাই যখন ঈদের আনন্দে ব্যস্ত তখন অনেক ফায়ার সার্ভিসের কর্মী হুটারের সাইরেন বাজিয়ে ছুটে চলেন মানুষের সেবায়। কোথাও কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তারাই সর্বপ্রথম ছুটে আসেন উদ্ধার কাজে। এজন্য তাদের সবসময় সজাগ থাকতে হয়। এতে অনেক সময় ফিকে হয়ে যায় তাদের ঈদ কিংবা অন্যান্য উৎসবের আনন্দ।
নিরাপত্তাকর্মী
ঈদের ছুটিতে বাসা-বাড়ির ঘরের তালা পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হয় নিরাপত্তা কর্মীদের। ঈদ এলে এই পেশার মানুষের দায়িত্ব বেড়ে যায় অনেকগুণ। ঈদে অনেক পেশার মানুষের ছুটি জুটলেও তাদের বেলায় খুব কম সময়ই ছুটি মঞ্জুর হয়। ফলে অফিস-আদালত ও ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মীদের সেই অর্থে কোনো ছুটি নেই।
ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ঈদগাহের দায়িত্বরত কর্মী
মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিনেরা খুব কম সময়ই ঈদের ছুটি পান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরিবার তাদের থেকে অনেক দূরে থাকে। ঈদে অনেক গুরু দায়িত্ব তাদের ওপর। নামাজ পড়ানো, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা ইত্যাদি। কোনোভাবেই দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ নেই। ঈদগাহের দায়িত্বে যারা থাকেন তাদের তো ঈদের আগে থেকেই কাজের মধ্যে থাকতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা রোদের কথা মাথায় রেখে মুসল্লিদের জন্য প্যান্ডেল নির্মাণ করা, নির্বিঘ্নে নামাজ পড়ার সুব্যবস্থা করার গুরুদায়িত্ব থেকে ছুটি মেলার কোনো সুযোগ নেই।
সাংবাদিক
রেডিও, টেলিভিশান, সংবাদপত্র কিংবা অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য ঈদের ছুটি পাওয়া অনেকটা খুব সৌভাগ্যের বিষয়। এবছর চার দিন পত্রিকা অফিস ছুটি রাখা হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য মিডিয়ার সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া কোনো বিরতি নেই। অবশ্য মিডিয়া হাউজগুলোকে ঈদ উৎসব নিয়ে অনেক নিউজ কাভার করতে হয় অথবা প্রোগ্রাম তৈরি করতে হয়। আর এটাও হয়তো ঈদ আনন্দেরই একটা অংশ। কিন্তু পরিবারের সাথে সময় কাটানো, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় ও স্বজনের বাসায় ঘুরে বেড়ানোর সৌভাগ্য খুব কম জনেরই হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ
ঈদে আরেক শ্রেণির মানুষ নিজের খুশিকে বিলেয়ে দেন মানুষের সেবায়। তারা হলেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে অনেক কর্মীকে ঈদেও অফিস করতে হয়। কোনো জায়গায় বিদ্যুতের সমস্যা হলে দ্রুত তাদের ছুটে যেতে হয় সমস্যা সমাধানের জন্য। এছাড়াও, বিদ্যুৎ, পরিবহন, শ্রমিক ও সরকারি বিভিন্ন অফিসে জরুরি বিভাগে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা জনকল্যাণে বিলিয়ে দেন তাদের ঈদ আনন্দ।