অনলাইন ডেস্ক:: সবার মতো এতিমখানার শিশুরাও মেতেছে ঈদ উৎসবে। তবে তাদের উৎসব ভালো খাওয়া-দাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কেউ কেউ পেয়েছে নতুন জামা, আবার অনেকে পায়নি। ফলে পুরনো কাপড়েই সঙ্গীদের সঙ্গে ঈদ উৎসবে মেতেছে তারা।

শনিবার (২২ এপ্রিল) মোংলা পৌর শহরের বিভিন্ন এতিমখানা ঘুরে দেখা গেছে, কেউ কেউ নতুন জামা পরেছে। আবার কারও কারও গায়ে পুরনো জামা। তবু সব ভুলে একে-অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে মেতেছে পিতৃহারা এসব শিশু।

মোংলা পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিগন্যাল টাওয়ার জরিনা কুলসুম এতিমখানায় থাকে মো. আলিফ শিকদার, সুজন আকন ও মনির হোসেনসহ ৬০ শিশু। ঈদের দিন ভালো খাবার খাওয়াই তাদের কাছে উৎসব। ফলে অন্য কিছু ভাবনায় নেই তাদের।

আলিফ, সুজন, রিয়াজ, মনির ও বেল্লাল জানায়, ঈদের দিন পোলাও-মাংস খেতে পারি, এটাই আনন্দের। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ নতুন জামা পেয়েছে। তবে অনেকে পায়নি। তবে পুরনো জামা ধুয়ে ইস্ত্রি করলে নতুন হয়ে যায়। তা পরেই ঈদ করেছি আমরা। ঈদের দিন সকালে সেমাই খেয়ে নামাজ পড়েছি। দুপুরে পোলাও-মাংস খেয়েছি। এ ছাড়া আর কোনও চাওয়া নেই আমাদের।

শহরের আইডিয়াল ক্যাডেট মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং এতিমখানা, কোরবান আলী মাদ্রাসা ও এতিমখানা, আলিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় গিয়ে শিশু শিক্ষার্থী মাছুম, সজিব, মোস্তাকিম, হাসান ও আব্দুর রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানায়, ঈদে নতুন জামা পাওয়া যায়। ঈদের দিন ভালো খাবারের ব্যবস্থা থাকে। এটাই আমাদের কাছে আনন্দের।’আইডিয়াল ক্যাডেট মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং এতিমখানার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এখানে ৬০ জন এতিম শিশু আছে।
এসব শিশু অন্য শিশুর মতো যাতে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সেজন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সবার জন্য নতুন জামার ব্যবস্থা করা যায়নি।’জরিনা কুলসুম এতিমখানার সুপার মাওলানা আকরাম উজ্জামান বলেন, ‘আমাদের এখানে ৬০ জন এতিম শিশু আছে। ঈদের দিন সবার জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা আছে। সকালে সেমাই, দুপুরে গরুর মাংস-পোলাও ও রাতে ভাত খাওয়ানো হবে।’তিনি বলেন, ‘বিত্তবানদের দানের টাকায় এতিম শিশুদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে প্রতি মাসে টাকার ঘাটতি থাকে। এজন্য বেশিরভাগ দিন ডাল-ভাত খাওয়ানো হয়। মানুষের অনুদান ও কোরবানির চামড়া সংগ্রহ থেকে কিছু টাকা আসে। তা দিয়ে সারা বছর চলে এসব শিশুর খাওয়া-দাওয়া। এতেই খুশি এসব শিশু। ঈদে নতুন পোশাকের জন্য অনেক শিশুর মন খারাপ থাকে। কিন্তু আমরা ব্যবস্থা করতে পারি না। ফলে তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে চালিয়ে নিতে হয়।’